ইসলাম কাকে বলে ইসলামের বৈশিষ্ট্য সমূহ বিস্তারিত

         

ভুমিকাঃ

ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। complete code of life যেখানে মানব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হল। আমাদের জানতে হবে ইসলাম কাকে বলে । মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন

وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ (সূরা নাহাল-৮৯)

অর্থঃ আমি আপনার প্রতি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে সবকিছু সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। Islam is a complete code of life suitable for all people and all lines and Allah’s mandate Is eternal and universal applies to every aphorism of human conduct and life.

আভিধানিক অর্থঃ

اسلام শব্দটি আরবী।বাবে افعال এর মাসদার।এটি سلم মূল ধাতু থেকে এসেছে।এর অর্থ হলো-

التسليم আত্বসমর্পন করা
الاطاعة আনুগত্য করা
معجم لغه الفقهاء প্রণেতা বলেন-الطاعه والانقياد والتسليم
Submission
Surrender

পারিভাষিক অর্থঃ

আল্লাহ প্রদত্ত দিন বা ধর্ম আর মহানবী কর্তৃক প্রদর্শিত জীবনব্যবস্থাকে ইসলাম বলে। যাতে রয়েছে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা বা জীবনবিধান।
♦ ইমাম আবু হানিফা এর মতে-
আল্লাহ তাঁর রাসূলের নির্দেশ মেনে নিয়ে যথাযথ অনুসরণ করাই ইসলাম।

♦ المعجم الوسيط প্রণেতা বলেন-
‏اظهارالخضوع والقبول لما اتى به محمد صلى الله عليه وسلم والذين الذي جاء به محمد صلى الله عليه وسلم

♦ বিখ্যাত দার্শনিক জর্জ বার্নাডশ বলেছেন-
Islam is the religion that desires to make people happy on each and get peace in the hair after.

♦ আহমদুর রহমান বলেছেন
Islam is complete surrender of Allah will and guidance.

♦ ইমাম শাফেই রহ এর মতেঃ
মুখের স্বীকৃতি ইসলাম। অন্তরের আত্মসমর্পণ এবং রাসূল কর্তৃক আল্লাহ তাআলার নিকট হতে আনীত সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করাকে ইসলাম বলে।

♦ মুফতি আমীমুল ইহসান বলেছেনঃ
হযরত আদম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ পর্যন্ত সকল নবী ও রাসূল মানবজাতির পথ প্রদর্শনের জন্য যে বিধান নিয়ে এসেছেন তাকে ইসলাম বলে।

♦ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অধ্যাপক ডঃ আ ন ম রইস উদ্দিন বলেছেন-
Islam is a complete code of life given by God for the betterment of mankind for thir peacefull co-existence in the wordly life and to pave the way for eternal pace in the life hereafter.

ইসলামের বৈশিষ্ট্যাবলীঃ

ইসলাম আল্লাহর মনোনীত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন। আকিদা, ইবাদত, সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি এবং শিক্ষাসহ মানব জীবনের সবকিছু এই ধর্মের ব্যাপকতার আওতাভুক্ত। ইসলাম ব্যক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ নয়। পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে ইসলামের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করা হলো।

ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামঃ

সর্বাবস্থায় আল্লাহর স্মরণঃ
ব্যক্তিগত জীবনে প্রত্যেক মানুষ সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করবে তথা আল্লাহর বিধি মোতাবেক জীবন যাপন করবে। আল্লাহ তা’আলা সূরা আলে ইমরানের মধ্যে বলেছেন-
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ (সূরা বাকারা-১৫২)

তাকওয়া অর্জন করাঃ
মানুষের চলার পথে প্রতি পদে আল্লাহকে ভয় করবে তথা আল্লাহর ভয়ে সকল অন্যায় অনাচার থেকে বিরত থাকবে । অর্থাৎ খোদাভীরুতা অর্জন করবে। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেছেন –
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ (সুরা আলে ইমরান-১০২)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।

ইসলামের দাওয়াতঃ
মানুষ যেমন তার ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামের অনুসরণ করবে । তেমনি অন্য মানুষকে ইসলাম অনুসরণ করতে উদ্বুদ্ধ করবে। সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন-
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (সূরা হা মীম-৩৩)
“তার চেয়ে ভালো কথা আর কার হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে নিজে নেক আমল করে আর বলে আমি মুসলমানদের মধ্যে অন্যতম”

জ্ঞান অর্জন করাঃ
নিজেকে ইসলামের আলোকে গড়ে তুলতে হলে জ্ঞান অর্জন করতে হবে । জ্ঞান ছাড়া ভাল-মন্দের পার্থক্য করা অসম্ভব । তাই ভালো কাজ করার জন্য, আর ভালো কাজ পরিচালনা করার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ( সূরা যুমাত-০৯)
“যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?”

পারিবারিক জীবনে ইসলামঃ

পরিবারের ভরণপোষণঃ
পুরুষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ তথা থাকা-খাওয়া ইত্যাদি সুষ্ঠু বন্দোবস্ত করা । এজন্য কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে-

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ (সূরা জুুময়া-১০)

যখন তোমরা নামায সমাপ্ত করবে তখন হালাল রিজিকের সন্ধানে জমিনে ছড়িয়ে পড়বে।

স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সুসম্পর্কঃ
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যেন সুসম্পর্ক বজায় থাকে এবং তাদের মধ্যে যেন বিবাদের সৃষ্টি না হয় এজন্য ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরুষদের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে- وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ তাদের সাথে স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে অনুরূপভাবে স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে । যেমন রাসূল বলেছেন, স্ত্রী তার স্বামীর হক আদায় না করা পর্যন্ত তার প্রভুর হক আদায় করতে পারবে না।

সন্তানের প্রতি নির্দেশঃ
সন্তান যদি পিতা-মাতার আনুগত্য না করে বা তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে । তবে সে পরিবারের শান্তি থাকতে পারে না ।তাইতো আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন –
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا (সূরা ইসরা-২৩)
“তোমার প্রতিপালক তোমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে আল্লাহ ছাড়া আর কারো দাসত্ব করোনা আর পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করো”

পিতা-মাতার প্রতি নির্দেশঃ
সন্তানকে প্রতিপালন সহ তাদের যাবতীয় দায়িত্ব পিতা মাতার দায়িত্ব আল্লাহ তাআলা বলেছেন –
وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ (সূরা বাকারা-২৩৩)
তাদের আহার পোশাকের দায়িত্বভার পিতার উপর।

ইসলাম কাকে বলে

সামাজিক জীবনে ইসলামঃ

সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেছেন- সামাজিক জীবনে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ইসলাম সমাজ থেকে সর্বপ্রকার নৈতিকতা, বিবর্জিত , গর্হিত কাজ দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

জীবনের নিরাপত্তাঃ
মানুষ যেন নিরাপদে জীবন-যাপন করতে পারে, এইজন্য ইসলামে হত্যাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেছেন –
وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ (সূরা ইসরা-৩৩)
“আল্লাহ বিধান ছাড়া তোমরা কাউকে অন্যায় ভাবে হত্যা করো না”

সম্পদের নিরাপত্তাঃ
সমাজের সকল মানুষের সম্পদ যেন নিরাপদে থাকে, এজন্য আল্লাহ তাআলা বলেছেন ” চোর পুরুষ বা নারী হোক ওর হাত কেটে দাও”

সম্ভ্রমের নিরাপত্তাঃ
ব্যাভিচারকে নিষিদ্ধ করে ইসলামের ঘোষণা হলো –
ولا تقربوا الزنا إنه كان فاحشة (সূরা ইসরা-৩২)
“তোমরা বিচারের নিকটবর্তী হয়ো না নিশ্চয়”

রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামঃ

রাষ্ট্রীয় জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। এই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল যেহেতু একমাত্র আল্লাহ তাআলার। সুতরাং হুকুমও চলবে একমাত্র আল্লাহ তাআলা।আল্লাহ বলেছেন – إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۚ
আল্লাহর জমিনে একমাত্র আল্লাহর হুকুম চলবে। মানুষের মধ্যে বিচার-ফয়সালা ও আল্লাহর তাআলার বিধি মোতাবেক করতে হব।
আল্লাহ বলেছেন-
وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ (সূরা মায়েদা-৪৪)
“যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান ছাড়া বিচার পয়সালা করে তারা কাফির”

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইসলামঃ

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইসলাম সম্পদের সুষম বন্টন এর নিশ্চয়তা প্রদান করে ।এ প্রসঙ্গে ইসলামের ঘোষণা হল-“যেন ধন-সম্পদ তোমাদের মধ্যে ফোন না হয়” ইসলামিক অর্থ ব্যবস্থার পরিবর্তে যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থার ধারণা প্রদান করে । কেননা সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা হলো-অনেক মানুষের সম্পদ কতিপয় ব্যক্তির হাতে পুঞ্জীভূত হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা হলো-ধনীর সম্পদ বণ্টনের মাধ্যমে গরিবের দুঃখ দুর্দশা দূর করে তাকে সচ্চল করে তোলা।ব্যাংকিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিবর্তে শেয়ারের মাধ্যমে ব্যবসা করার কথা ইসলাম বলে। তাইতো ।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَ (সূরা বাকারা-২৭৫)
“আমি ব্যবসাকে হালাল করেছি আর সুদকে হারাম করেছি”

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসলামঃ

আজকের অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে ইসলাম প্রদত্ত আন্তর্জাতিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে হবে । কারণ ইসলামে কোন জাতীয়তাবাদের স্বীকৃতি নেই । বরং ইসলাম পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে একই বংশোদ্ভূত মনে করে । এই সম্পর্কে ইসলামের কথা হল-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ (সূরা নিসা-০১)
অর্থঃ হে মানবসকল তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যিনি সমস্ত মানুষকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন ইসলামের আলোকে একত্র হলে তাদের মধ্যে কোন যুদ্ধ বিগ্রহ বা হানাহানি থাকবে না।

ইসলাম কাকে বলে ইসলাম কাকে বলে ইসলাম কাকে বলে

You Might Also Like