ভারতীয় উপমহাদেশে হাদীসের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলােচনা কর ।

Discuss the origin

ভূমিকাঃ

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কাল থেকেই হাদীস চর্চা শুরু হয় এবং এখানে মুসলিম জনসংখা বৃদ্ধির সাথে সাথে ইসলামী জ্ঞান চর্চা ব্যাপকতর হয় । ইসলামের্হ প্রচারকগণ সর্বত্র ইসলামী জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র গড়ে তােলেন । খ্যাতনামা মুহাদ্দিস শায়ক শরফুদ্দীন আবূ তাওয়ামা ৭ম শতকে ঢাকার সােনারগাঁও আগমন । করেন এবং কুরআন ও হাদীস চর্চার ব্যাপক ব্যবস্থা করেন । নিম্নে ভারতীয় উপমহাদেশে হাদীসের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলােচনা করা হলো।

ভারতীয় উপমহাদেশ পরিচিতিঃ

ভারতীয় উপমহাদেশ হল এশিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত একটি উপমহাদেশ , যা হিমালয়ের দক্ষিণে ভারতীয় টেকটনিক পাতের উপর অবস্থিত এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত প্রসারিত এক সুবিশাল ভূখণ্ডের উপর । বিদ্যমান । এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলি হল বাংলাদেশ , ভারত , ভুটান , মালদ্বীপ , চীন , পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা । ( সূত্র উইকিপিডিয়া )

উপমহাদেশে সাহাবীদের আগমনঃ

এ উপমহাদেশের সাথে আরব দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অতিশয় প্রাচীন । ইতিহাস হতে প্রমাণিত হয় যে , দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ফারূক ( রা ) – এর খিলাফতকালে বিশ্ব নবীর সাহাবিগণের কেহ কেহ এই উপমহাদেশে আগমন করেছেন । তারা হলেন-
★ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উতবান ,
★ হযরত আসেম ইবনে আমর আঠতমীমী ,
★ হযরত সুহার ইবনে আল – আবদী ,
★ হযরত সুহাইব ইবনে আলী এবং
★ হযরত আল – হাকেম ইবনে আবিল । আস আসসাকাফী (রা) । অতঃপর হযরত উসমান , হযরত আলী ও আমীর মুয়াবিয়ার শাসনামলেও ভারতে । সাহাবীদের আগমন অব্যাহত থাকে । হযরত উসমানের খিলাফতকালে যে দুইজন সাহাবী ভারতবর্ষে আগমন করেন , তারা হলেন
  ★ হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর আততামীমী ও
  ★ হযরত আবদুর রহমান ইবনে সামুরা ইবনে হাবীর ইবনে আবদে শামস । আর হযরত আমীর মুয়াবিয়ার যুগে আসেন হযরত সিনান ইবনে । সালমাহ । তদানীন্তন ইরাক শাসনকর্তা যিয়াদ তাঁকে ভারত সীমান্তের শাসনকর্তা নিযুক্ত করে পাঠিয়েছিলেন ।

উপমহাদেশে তাবেয়ীদের আগমনঃ

সাহাবাদের পর বহু সংখ্যক তাবেয়ী ভারতে আগমন করেছেন । আমীর মুয়াবিয়ার যুগে সর্ব প্রথম ভারত আগমন করেন , তিনি হলেন মূলহাব ইবনে আবু সফরা । তিনি ৪৪ হিজরী সনে হযরত আবদুর রহমান ইবনে সামুরা সাহাবীর সঙ্গে একজন সেনাধ্যক্ষ হিসাবে এখানে পদার্পণ করেন । তিনি সিজিস্তান ও কাবুল সীমান্ত অতিক্রম করে লাহােরে আসেন।

উপমহাদেশে হাদীস প্রচারঃ

সাহাবায়ে কিরামই ছিলেন ইলমে হাদীস প্রচারের সর্বপ্রথম বাহন । তাঁরা ছিলেন দ্বীন – ইসলাম প্রচারের বাস্তব নমুনা ও অগ্রদূত । তাঁরা যেখানেই গিয়েছেন , সেখানেই ইসলাম তথা কুরআন – হাদীস প্রচারে আত্মনিয়ােগ করেছেন । কাজেই এই দেশেও যে তাঁরা কুরআনের সঙ্গে সঙ্গে হাদীসের প্রচারের কাজও করেছেন তাতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না ।

সিন্দু প্রদেশে ইলমে হাদীসঃ

এই উপমহাদেশের সীমান্ত এলাকায় ক্রমাগত কয়েক বৎসর পর্যন্ত মুসলিম অভিযান পরিচালিত হয় । সিনান ইবনে সালমাহ কুসদার দখল করেন । অতঃপর হুরী ইবনে হুরী বাহেলী এক ব্যাপক অভিযানের সাহায্যে সিন্ধুর অধিকাংশ এলাকার উপর ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন । ১৩ হিজরী সনে মুহাম্মদ ইবনে কাসিম সিন্ধু বিজয় সম্পূর্ণ করে তাকে ইসলামী রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রদেশে পরিণত করেন । মূলতান , মনসুরা , আলাের , দেবল , সিন্দান , কুসদার ও কান্দাৰীল প্রভুতি স্থানে আরবরা উপনিবেশ স্থাপন করেন । ব্যবসায় – বাণিজ্য ও স্থায়ী বসবাসের উদ্দেশ্যে এই সময় এদেশের বহু সংখ্যক আরব আগমন করেন । ফলে উল্লিখিত সকল স্থানেই ইসলামী শিক্ষাৰ করআন ও হাদীস শিক্ষাদানের কেন্দ্র স্থাপিত হয় । তাঁদের মধ্যে যারা বিশেষভাবে হাদীস প্রচারের কাজ করেছেন । তাঁদের কয়েকজনের নাম পরিচয় এখানে উল্লেখ করা হলঃ

♦ মূসা ইবনে ইয়াকুব আসসাকাফী । তিনি সিন্ধুদেশে বিচারপতি ( কাযী ) হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন । ইলমে হাদীসে তাঁহার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল ।

♦ ইয়াযীদ ইবনে আবী কাবশী আদ – দামেশকী মেঃ ৯৭ হিঃ )। তিনি ছিলেন তাবেয়ী , হযরত সারদা শাহবীল ইবনে আওজ ও মারওয়ান ইবনে হাকাম প্রমুখ সাহাবীর নিকট হতে তিনি বিপুল সংখ্যক | হাদীস শিক্ষা লাভ করেছিলেন ।

♦ মুফাযল ইবনে মুহালাব ইবনে আব সাফরা ( মঃ ১০২ হিঃ ) তাবেয়ী । হাদীস বর্ণনায় তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা অবলম্বন করেন । সাহাবী হযরত নুমান ইবনে বশীল হতে তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

♦ আবু মূসা ইসরাঈল ইবনে মুসা আল বসরী ( মঃ ১৫৫ হিঃ ) সিদ্ধী । তিনি বসরা হতে ব্যবসার উপলক্ষে ভারতে আগমন করেন । তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত হাদীস বর্ণনাকারী ।

♦ আমর ইবনে মুসলিম আল বাহেলী , তিনি খলীফা উমর ইবনে আবদুল আযীযের অধীনে প্রাদেশিক শাসনকর্তা হিসাবে সিন্ধু আগমন করেন । তিনি ইয়ালা ইবনে উবাইদ হইতে হাদীস বর্ণনা করেছেন ।

♦ রবী ইবনে সবীহ আস – সায়দী আল – বসরী ( মঃ ১৭০ হিঃ ) তিনি বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন ; হাদীস | গ্রন্থও তিনি সংকলন করেছেন । ১৬০ হিজরীতে তিনি ভারত পদার্পণ করেন ।

উত্তর ভারতে হাদীস চর্চাঃ

দ্বিতীয় হিজরী শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সিন্ধুদেশ কেন্দ্রীয় আরব সরকারের অধীন ছিল । তার পর এ দেশের বিদ্রোহ , উচ্ছলতা ও রাজনৈতিক বিপর্যয় দেখা দেয় । সে সময় গােটা প্রদেশ কতকগুলি ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজ্যে । বিভক্ত হয়ে পড়ে । অতঃপর সপ্তম হিজরী শতকের মধ্যে গােটা উপমহাদেশের উপর মুসলিম আধিপত্য বিস্তৃত ও দৃঢ়তর হয় । দিল্লী মুসলিমদের রাজধানীরূপে নির্দিষ্ট হয় । এর পর খাইবার গিরিপথ হতে এশিয়াটিক তুর্কিস্তান , খুরাসান ও আফগানিস্তান প্রতি অঞ্চলের মুসলিমগণ দলে দলে ভারতে আগমন করতে থাকে । এই দেশে হতে বিপুল সংখ্যক লােকের আগমনের ফলে ভারতে ইসলামী শিক্ষা ও ইলমে হাদীসের ব্যাপক প্রচার শুরু হয়ে যায় ।

হাদীসের উৎপত্তি

লাহােরে ইলমে হাদীসঃ

লাহােরে ইলমে হাদীস প্রচার করেন শায়খ মুহাম্মদ ইসমাঈল লাহােরীর নাম ( মৃঃ ৪৪৮ হিঃ ) । তিনি বুখারা হতে ৩৯৫ হিজরী সনে ভারতে আগমন করেন ও লাহােরে বসবাস শুরু করেন । এখানে তিনি ইসলামী আদর্শ প্রচার । প্রসঙ্গে ইলমে হাদীসের উপর অধিক গুরুত্ব আরােপ করেন ও এর ব্যাপক প্রচারের কার্যকর পন্থা অবলম্বন করেন । ফলে পরবর্তী একশত বৎসরের মধ্যে লাহােরে অসংখ্য মুহাদ্দিস গড়ে উঠেন । এই সময়কালের লাহোের বসবাসকারী কয়েকজন মুহাদ্দিসের নাম – পরিচয় এখানে উল্লেখ করা যেতে পারেঃ

♦ সাইয়েদ মুরতাযা ( মৃঃ ৫৮৯ হিঃ ) । তিনি হাদীস – বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন ও সুলতান শিহাব উদ্দীন | ঘােরীর সৈন্যবাহিনীতে যােগদান করেন ।

♦ আবুল হাসান আল ইবনে উমর লাহােরী ( মঃ ৫২৯ হিঃ ) । তিনি বড় মুহাদ্দিস ছিলেন , হাফেজে হাদীস আবুল মুযাফফর সায়ীদীর নিকট তিনি হাদীস শিক্ষা লাভ করেন ।

♦ আবুল ফুতহ আবদুস সামাদ ইবনে আব্দুর রহমান লাহােরী ( মঃ ৫৫০ হিঃ ) । তিনি সমরকন্দে হাদীসের | দারস দিতেন ।

♦ আবুল কাসেম মুহাম্মদ ইবনে খালফ লাহােরী ( মঃ ৫৪০ হিঃ ) । তিনি পরে ‘ ইসফ্রাইন ‘ চলে যান । তিনি | একজন উঁচু স্তরের হাদীসবিদ আলিম ছিলেন ।

হাদীসের উৎপত্তি

সপ্তম শতকের উপমহাদেশীয় মুহাদ্দিসঃ

হিজরী সপ্তম শতকে উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব মুহাদ্দিস জীবিত ছিলেন , এখানে তাঁদের কয়েকজনের নাম পরিচয় উল্লেখ করা হচ্ছেঃ

♦ শায়খ বাহাউদ্দীন যাকারিয়া মুলতানী ( মঃ ৬৬৬ হিঃ ) । তিনি সাহাবী হাব্বান ইবনে আসওয়াদের বংশধর । মক্কা ও মদীনা হতে তিনি হাদীস শিক্ষা ও তাতে বিশেষ পারদর্শিতা লাভ করেন ।

♦ কাজী মিহাজুস সিয়া জুজালী ( মঃ ১৬০৮ হিঃ ) । তিনি বংগদেশের লক্ষণাবতিতে আগমন করেন ।

♦ কামালুদ্দীন জাহিদ ( মুঃ ৬৮৪ হিঃ ) । তাঁহার আসল নাম মুহাম্মদ ইবনে আহম্মদ ইবনে মুহাম্মদ । তিনি | শখ নিজামুদ্দীন আউলিয়া উল্কাদে হর্গিীস হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন ।

♦ রাশীটীন বদায়ুনী ( মঃ ৭৫০ হিঃ ) । তিনি সমসাময়িকদের মধ্যে অতিশয় খ্যাতিসম্পন্ন মুহাদ্দিস ছিলেন ।

হাদীসের উৎপত্তি

শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা

হিজরী সপ্তম শতকে উপমহাদেশের হাদীস প্রচারের অগ্রদূত । শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা বুখারী হাম্বলী ( মঃ । ৭০০ হিঃ ) । তিনি বৃথা হইতে সপ্তম শতকের শুরুতে দিল্লী আগমন করেন । তিনি বংদেশের ( ঢাকা জিলাধীন ) সােনারগাঁয়ে চলে আসেন এবং এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন । তিনি বিশেষ মনােযােগ সহকারে ইলমে হাদীস শিক্ষা লাভ করেন । তাঁর চেষ্টায় সােনারগাঁ অনতিবিলম্বে হাদী । শিক্ষার পাদপীঠে পরিণত হয় । দুঃখের বিষয় , সােনারগাঁয়ে ইলমে হাদীস চর্চার বিস্তারিত বিবরণ এখনাে ‘ অন্ধকারে নিমজ্জিত ।

হাদীসের উৎপত্তি

অষ্টম শক্তকে উপমহাদেশের হাদীস চর্চাঃ

অষ্টম হিজরী শতকে পাক – ভমরক্তে ইলমে হাদীসের ক্রমবিকাশের অধ্যায় সূচিত হয় । দক্ষিণাত্যের বাছামুন বাদশাহ মাহমুদ বাহামুনী ( ৭৮০ – ৭৯১ হিঃ ) ইলমে হাদীস প্রচারের দিকে বিশেষ লক্ষ্য আরােপ করেন । হাদীস শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি ব্যক্তির ব্যবস্থা করেন । এই সময় ভারতের প্রায় সর্বত্র ফিকাহ , দর্শন ও তাসাউফ চর্চার প্রভাব পরিলক্ষিত হলেও হাদীস শিক্ষা ব্যাপক কোন অংশে ব্যাহত হয় নাই । বরং , বিশিষ্ট তাসাউফ পন্থিগণ ইলমে হাদীস প্রচারে আত্মনিয়ােগ করেন । সর্বোপরি চারঞ্জন প্রখ্যাত তাসাউফবাদীর নেতৃত্বে নিম্নলিখিত চারটি হাদীস শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে উঠে ।
 
♦ নিজামউদ্দীন আউলিয়ার নেতৃত্বে দিল্লীতে হাদীসের ব্যাপক শিক্ষাদান শুরু হয় ।

♦ শরফুদ্দীন আল – মুনীরীর নেতৃত্বে ও শিক্ষাদানের ফলে বিহার অঞ্চলে হাদীস শিক্ষার সূচনা হয় ।

♦ আল – হামদানীর নেতৃত্বে কাশ্মীরে হাদীস শিক্ষা সুচিত হয়।

♦ যাকারিয়া মুলতানীর নেতৃত্বে মুলতানে ইলমে হাদীসের প্রচার হয়.

হাদীসের উৎপত্তি

উপমহাদেশে ইলমে হাদীসের রেনেসাঁ যুগঃ

নবম শতকে উপমহাদেশে ইলমে হাদীসের রেনেসাঁ যুগ সূচিত হয় । ধারাটের অধিপঞ্জি আহমদ শাহ আৱিৰ ও ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ নুতন করে উন্মুক্ত করেন । ফলে আরবদেশ হতে বহু হাদীসবিদ ভারতবর্ষে আগমন করেন । এই সময় যেসব মুহাদ্দিস ভারতে আসেন , তাঁদের মধ্যে নিম্নলিখিত দুইজন মুহাদ্দিসের নাম । সর্বপ্রথম উল্লেখযােগ্য:
  
  ♦ বদরউদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আবী বর দামায়ামী (ঃ ৮২৭ হিঃ ) । ছিনি ইয়েমেনের জামে জাবীদ এ হাদীসের অধ্যাপক ছিলেন । এখানে তিনি বুখারী শরীফের উপর ‘ মাসাবীহুল জামে ‘ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন । তিনি ৮২০ সনের শাবান মাসে ভারতের গুজরাটে আগমন করেন ।

♦ আবুল ফুতুহ নুরউদ্দীন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ শিরাজী তয়ুসী ( মৃঃ ৮৫০ হিঃ ) । তিনি সম্ভবত ৮১৪ – ৮৪৪ সনে গুজরাটে আসেন । তিনি মাজদুদ্দীন ফিরোজাবাদী , শামসউদ্দীন জাজারী , সাইয়েদ শরীফ জুরজানী ও বাবা ইউসুফ হারাভীর ছাত্র ।
 
মিসরের ইবনে হাজার আসকালানী প্রতিষ্ঠিত হাদীস শিক্ষাকেন্দ্র হতে যাঁরা ভারতে আসেন ।

★ ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবুল খায়ের হাশেমী ( মৃঃ ৮৪৩ হিঃ )
★ খাজা ইমাদ সাখাভী ।

যাকারিয়া আল – আনসারী প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্র হতে আগত মুহাদ্দিসগণের নামঃ

★ আবদুল মুতী হাজরানী ( মৃঃ ৯৮৯ হিঃ )
★ শিহাবুদ্দীন আব্বাসী ( ৯৩২ হিঃ)

♦ ইবনে হাঙ্গার হারসায়ী প্রতিষ্টিত কল হতে আল মুহালিসপুণের নামঃ
 
★ শায়খ ইবন আবদুল্লায় আইসরুণী ( মৃঃ৯৯১ হিঃ )
★ আবু সায়াদাত মুযদ আল ফকহী মােঃ ৯৯২ হিঃ )
★ মীর মুৱাযা শরীফ শিরাজী ( মৃঃ ৯৭৪ হিঃ )
★ মিশকাত শরীফের প্রসিদ্ধ ভাষ্য  ‘মিরকাত – এর গ্রন্থকার মুল্লা  আলী কারী এই কলের ছাএ ।

হাদীসের উৎপত্তি

পাক – ভাৱতের হাদীস শিক্ষার কেন্দুসমূহ

★ দাক্ষিণাত্যে
★ গুজরাট
★ মাওয়া
★ আন্দেশ
★ সিন্ধু
★ লাহাের
★ ঝাঁসী ও কালপী
★ আগ্রা
★ লক্ষৌণ
★ জেঁনপুরী
★ বিহার অষ্টম শতকে শরীন সুদীরীর হাল সাইন্সেল মিনহাজুদ্দীন রাষ্ঠীৰ । মাধ্যমে বিহারছ ফুলওয়ারী ‘ শৰ্মীফে ইলমে হাদীস পৌঁছায় । দশম শভকে এর বিকাশ ও উন্নতি লাভ করে ।

ছালাস শিক্ষার উজালে উপমহাদেশীয়দের বিদেশ সফরঃ

৮২০ হিজরী হইতে® ৯৯২ হিজরীর ( ইং ১৪১৭ ১৫৮৪ ) মাধ্য উপমহাদেশে বিদেশী মুহাদ্দিসগণের আগমনে হাদীস শিক্ষার ক্ষেত্রে এক নব জোয়ারের সূচনা হয় এবং সে সময় থেকেই এই দেশের বিদ্যাৎসাহী ও জ্ঞান পিপাসু ব্যক্তিগণ হাদীস  শিক্ষার মহান উদ্দেশ্যে বিদেশ সফরে বহির্গত হতে শুরু করেন । তাঁদের এই বিদেশ যাত্রী কৈবল ভারতের মধ্যেই সীমাব্দ্ব হয়ে থাকে নাই – সুদূর মক্কা – মদীনা পর্যন্ত তাঁরা ইলমে হাদীসে উচ্চ শিক্ষা লাভ করার উদ্দেশ্যে সফর করেন । এই যুগেও তাঁরা উত্তাল তরঙ্গ মুখর সমুদ্র পরিক্রমায় ঝুঁকি গ্রহণ করঞ্জে এক বিন্দু কুষ্ঠিত না ঋীত হন নাই । এই যুগের মুহাদ্দিস আবদুল আউয়াল আল – হুসাইনী ( মৃঃ ৯৮৬ ) হইতে শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলজী ( মু: ১১৭২ হিঃ ) পর্যন্ত প্রায় সকল হাদীসবিদই হাদীস শিক্ষার উদ্দেশ্যে এইরূপ সফর করেছেন ।

হাদীসের উৎপত্তি

এই সময় নিম্নলিখিত ব্যক্তি হাদীস – বিজ্ঞানে বিশেষ পারদর্শিতা লাভ করেনঃ

আবু  বকর ইবনে মুহাম্মদ আল – বহরু ( মৃঃ ৯১৫ হিঃ ) । ২ . মীর সাইয়েদ আবদুল আউয়াল আল – হুসাইনী গুজরাটী জৌনপুরী ( মৃঃ ১৯৮৬ হিঃ )

খাজা মুবারক ইবনে মখদুম আর রাজানী বানারসী ( মৃঃ ৯৮১ হিঃ ) ।
৪ , জামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে তাহের ইবনে আলী ফাত্তানী ( মঃ ৯১৪ হিঃ ) ।

শায়খ আবদুল্লাহ আনসারী সুলতানপুরী ( মঃ৯৯০ হিঃ ) । ৬ . শরহে আগা শামায়েলুন্নবী গাংগুহী ( মঃ ১৯৯০ হিঃ ) । তিনি ইবনে হাজার হায়সামীর নিকট হাদীসের শিক্ষা । | লাভ করেন । আকবরের আমলে তিনি ইসলামের জন্য বিপ্লবাত্মক ভূমিকা – হাহণ করেন ।

শায়খ অঙ্গীহীণ আলাভী গুজরাটী ( মঃ ৯৯০ হিঃ ) । তিনি অন্যান ২৩ খানা গ্রন্থ রচনা করেন । শরহে | জামা , তাফসীরে বায়যায়ী , মুজহাতুন্নবার ফী শরহে যখৰাতুল ফিকর প্রভৃতি তাঁহার বিখ্যাত রচনা ।

শায়খ তাহের ইবনে ইউসুফ সিলী বুরহানপুরী ( মঃ ১০০৪ হিঃ ) ।

শায়খ ইবনে হাসান সায়ফা কাশ্মীরী ( মঃ ১০০৩ হিঃ ) । তিনি শায়খ আহমদ সরহিন্দী মুজাদ্দিদে | আলফেসানীর উস্তাদ ।

হাজী মুহাম্মদ কাশ্মীরী ( মঃ ১০০৬ হিঃ ) ।

শায়খ মুনাওয়ার ইবনে আবদুল মজীদ ইবনে আবদুস শকর লাহােরী ( ১০১০ হিঃ ) তিনি আকবরের | আমলে একজন বিপ্লবী আলিমের ভূমিকা অবলম্বন করেন । এইজন্য তিনি কারাবরণ করেন ।

মুহীউদ্দীন আবদুল কাদের ইবনে শায়খ ইবনে আবদুল্লাহ ( মৃঃ ১০৩৭হিঃ ) ।

আবদুন্নবী শান্তারা ( মৃঃ ১০৩৯ হিঃ ) ।

হাদীসের উৎপত্তি

সমাপনী

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাঃ এর শাসনামলে সাহাবীদেমাধ্যমে এবং পরবতীর্তে তাবেয়ীদের মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশে ইলমে হাদীসের চর্চা ও বিকাশের সচনা হয় । পরবর্তী সময়ে এতদঞ্চলে ইসলামের বিজয়ের পথ ধরে ইলমে হাদীসের চচা ও প্রসার ব্যাপকতা লাভ করে ।