জিহাদ কি কত প্রকার কাদের উপর ফরজ বিস্তারিত আলোচনা

         

ভূমিকাঃ

জিহাদ হলো আল্লাহ তায়ালার হুকুম।জিহাদ এজটি ফরজ বিধান। নিম্নে জিহাদ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

আভিধানিক অর্থঃ

অভিধানবেত্তাগণের দৃস্টিতে جهاد শব্দটি جهد মূল ধাতু হতে নির্গত। এটি فعال ওজনে باب مفاعلة এর মাসদার। এ শব্দটি বিভিন্নভাবে পড়া যায়। এর অর্থ হলো-

  • চূড়ান্ত প্রচেষ্ঠা করা,
  • তথা শক্তি ব্যয় করা,
  • সামর্থ্য ব্যয় করা ,
  • শক্তি,
  • শক্ত জমি

جهاد এর পারিভাষিক অর্থঃ

আল বেকায়াহ গ্রন্থকার বলে

الجهاد هو الدعاء الى الدين الحق وقتاله من لم يقبله
অর্থাৎ জিহাদ হলো সত্য জীবন বিধানের প্রতি আহব্বান করা,আর আহব্বান অগ্রাহ্যকারীর বিরুদ্ধে যুদ্দ করা।

ফাতহুল বারী গ্রন্থকার বলেন-

ويبذل المجهود في قتال الكفاري

দুররুল মুখতার গ্রন্থাকার বলেন-

هو قتل الكفار لنصره الاسلام

মুসলমানদের জানমাল যদি হুমকির সম্মুখীন হয়। তখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মুসলমানের উপর জিহাদ করা ফরজে আইন।

জিহাদের প্রকারভেদঃ

জিহাদ হলো ২ প্রকার

  • جهاد اكبر
  • جهاد اصغر

جهاد اكبر:

جهاد اكبر হলো যারা ইসলামের দুশমন ,ইসলামে ক্ষতি সাধনে সর্বদা লিপ্ত থাকে তাদের বিরোদ্বে যুদ্দ করা।
এটা আবার দু-প্রকার,

  • جهاد اقدامى (আক্রমণাত্মক যুদ্দ)
  • جهاد دفاعى(প্রতিরোধ মুলক যুদ্দ)

جهاد اصغر:

যে সকল কাজ করার ব্যাপারে আল্রালাহ ও রাসুল সাঃ নিশেদ করেছেন অর্থাৎ গুনাহ হয় এমন কাজ থেকে নিজের কলবকে নিরাপদ রাখার নাম جهاد اصغر

সমকালীন প্রেক্ষাপটে জিহাদের হুকুমঃ

সাধারণত জিহাদ ফরজে কেফায়া হলেও অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের এই সময় কখনও কখনও জিহাদ করা ফরজে আইন হয়ে পড়ে। হক্কানি ওলামায়ে কেরাম ইসলামী আইনবিদ ও স্কলারগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।তারা বলেছেন বর্তমান সময়ে ইসলাম বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নেই। তাই ইসলামকে বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করা ফরজে আইন। তারা আরো বলেছেন বর্তমান সময়ে ইসলাম বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না থাকায় ইরাক, আফগানিস্থান, আরাকান, কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, মিয়ানমারে মুসলমানগন দুশমনদের হাতে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত ,লাঞ্চিত ও অত্যাচারিত হচ্ছে সুতরাং এই অবস্থার সর্বসম্মত অভিমত হলো, এসব নির্যাতিত মুসলমানদের মুক্তির জন্য ইসলামের প্রথম যুগে যেমন জিহাদ ফরজ ছিল, তেমনি বর্তমানে এ সময়েও জিহাদ ফরজ।জিহাদের গুরুত্ব নিয়ে আল্লাহ বলেন-

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ ۚ فَإِنِ انتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (সূরা আনফাল-৩৯)

রাসূল সাঃ বলেছে

افضل الاعمال عند الله الايمان بالله والجهاد في سبيل الله

প্রত্যেক মুসলমানের উপর জিহাদ করা ফরজ কিনাঃ

সাধারনত জিহাদ ফরজে কেফায়া। তবে সময় ও অবস্থার প্রেক্ষিতে কখনো কখনো জিহাদ ফরযে আইন হয়ে পড়ে।নিম্নলিখিত অবস্থায় প্রত্যেক মুসলমানের উপর জিহাদ করা ফরজ।

  • যদি মুসলমান প্রত্যক্ষভাবে শত্রুপক্ষের আক্রমণের শিকার হয় এবং মুসলিম উম্মাহর সংহতি হুমকির সম্মুখীন হয়, তখন মুসলিম খলিফার নির্দেশে প্রত্যেক মুসলমানের উপর ইসলামবিদ্বেষী অপশক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করা ফরজে আইন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- فَمَنِ اعْتَدَىٰ
  • عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ (সূরা বাকারা-১৯৪)
  • মুসলমানদের জান মাল যদি কোনো গোষ্ঠী কিংবা দল কর্তৃক হুমকির সম্মুখীন হয়, তখনও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মুসলমানের উপর জিহাদ করা ফরজে আইন।
  • যেসব মুসলমান প্রথম যুদ্ধ করবে তারা যদি আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, তখন পাশবর্তী সব মুসলমানদের উপর জিহাদ করা ফরজে আইন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন-انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ (সূরা তাওবা-৪১)

অতএব এই উপরিক্ত তিনটি অবস্থায় জিহাদ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরযে আইন। কিন্তু সর্ববস্থায় জিহাদ করা ফরয নয় বরং স্বাভাবিক অবস্থায় জিহাদ ফরজে কেফায়া।

جهاد ও قتال এর মধ্যে পার্থক্যঃ

সাধারণ দৃষ্টিতে جهاد قتال সমার্থক মনে হলেও মুহাদ্দিসগণ এদের মধ্যে সূক্ষ্ম কতগুলো পার্থক্য নির্ণয় করয়েছেন, তা নিম্নরূপ

قتال এর শাব্দিক অর্থ হল লড়াই করা, প্রতিরোধ করা, অভিসম্পাত করা। আর جهاد অর্থ হল প্রচেষ্টা, কষ্ট স্বীকার করা, সামর্থ্য ব্যয় করা ইত্যাদি।

শরহে বেকায়া গ্রন্থকার বলেনঃ

জিহাদ হলো ইসলাম এর দাওয়াতের জন্য প্রচেষ্টা করা।
আর قتال হল যে ব্যক্তি এই দাওয়াত কে অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংগ্রামরত মুসলিম মুজাহিদদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদের দমনে কাফের শক্তি দল বেঁধেছে। তারা অপপ্রচার চালিয়ে ইসলামের চিরন্তন আদর্শ জিহাদের আবেদনকে কলুষিত করেছে। মানুষের মাঝে জিহাদ সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, কিছু কিছু মুসলিম নামধারী তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য এসব অপপ্রচারে ব্যাস্থ রয়েছে।এমনই মুহূর্তে সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে জিহাদের আহবানে সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব

You Might Also Like