তাবেঈ কাকে বলে, তাদের মর্যাদা, স্তর সমূহ ও সর্বত্তম তাবেয়ীর বর্ণনা

What is Tabe

ভুমিকাঃ

তাবীঈদের পরিচয়

এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন সাহাবায়ে – কেরাম । সাহাবীদে পরবর্তী মর্তবা হচ্ছে তাবেয়ীগণের । যারা । সমানের সাথে হযরত নবী করীম সা . কে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন এবং ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তারাই । সাহাবী । আর তাবেয়ী হচ্ছেন , যাঁরা ঈমানের সাথে সাহবীগণের সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ । করেছেন । প্রশ্নালােকে নিম্নে এ সম্পর্কে আলােচনা করা হল ।

তাবেয়ী এর পরিচিতিঃ

تابع শব্দটি আরবি , এটি تبع শব্দ থেকে উদগত । শব্দটি একবচন , বহুবচনে تابعي ব্যবহার হয় । এর । আভিধানিক অর্থ হচ্ছে-
★ সামঞ্জস্য বিধানকারী
★ সাদৃশ্য রক্ষাকারী
★ অনুগামী
★ সমতা বিধানকারী
★ অনুসারী

পারিভাষিক সংজ্ঞাঃ

যিনি সাহাবীকে ঈমান অবস্থায় দেখেছেন এবং ঈমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন , তাঁকে তাবেয়ী বলা হয় ।
المعجم الوسيط প্রণেতা বলেন ,
التابعي هو من لقي الصحابة مؤمنا بالنبي صلى الله عليه وسلم – ومات على السلام
অর্থাৎ ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় যেসব ব্যক্তি রাসূল ( সা ) এর প্রতি ঈমান এনে সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে তাবেয়ী বলা হয় ।
♦ খতিব বাগদাদীর মতে-
التابعي من صحب صحابيا ও যিনি কোনাে সাহাবীর সংস্পর্শে ছিলেন তাঁকেই তাবেয়ী বলা হয় ।
♦ অধিকাংশ মুহাদ্দিস সাহাবী সংস্পর্শে থাকাকে তাবেয়ী হওয়ার শর্ত করেননি বরং তাঁর সাক্ষাত লাভকেই যথেষ্ট মনে করেছেন ।
♦ ইমাম নববী বলেছেন-
التابعي من لقي صحابيا وان لم يصحبه
অর্থাৎ তাবেয়ী তিনিই যিনি কোনাে সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছে , যদি ও তাঁর সংস্পর্শে থাকেন নি । এজন্যই ইমাম মুসলিম ও ইবনে হিব্বান ( মৃ . ৩৫৪হি ) আল আমাশ কে তাবেয়ী গণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন । কারণ আনাস ( রা ) ( মৃ . ৯৩হি ) এর মাথে সাক্ষাত হয়েছিল । তবে তার থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না ।
♦ ইবনে হিব্বান এ বিষয়ে সাহাবীর সাথে সাক্ষাতকালে তাবেয়ীর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়াকে শর্তারােপ করেছেন । তিনি বলেছেন-
فان كان صغيرا لم يحفظ عنه فلا عبرة برؤيته
অর্থাৎ সাক্ষাতের সময় যদি তিনি অল্পবয়স্ক হয়ে থাকেন এবং যা কিছু শুনেছেন , তার পুর্ণ হিফাজত ও সংরক্ষণে অসমর্থ হন , তাহলে সাহাবীর সাথে তার নিছক সাক্ষাতের কোনাে মূল্য নেই ।

তাবেয়ীগণের মর্যাদাঃ

সাহাবাদের পরবর্তী সময়ের তাবেয়ীনরা সাহাবীদেরই প্রতিবিম্ব ছিলেন । তাঁরা একদিকে যেমন রাসূলের সাহাবীদের নিকট হতে কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কিত যাবতীয় জ্ঞান অর্জন করেন , অপরদিকে তাঁরা বিরাট মুসলিম সমাজের দিকে – দিকে , কোণে – কোণে ব্যাপক প্রচারাকার্য সম্পাদন করেন । ইসলামী জ্ঞান সাহাবীদের নিকট হতে গ্রহণ ও পরবর্তীকালের অনাগত মুসলিমদের নিকট পৌছাবার জন্য কার্যত তাঁরাই অন্যতম মাধ্যম ছিলেন । মুসলিম উম্মাহর মাঝে সা পরেই তাবেয়ীগণের মর্যাদা অনস্বীকার্য । তাকওয়া , পরহেযগারী ও আমলী জিন্দেগীর ক্ষেত্রে সাহাবীগণের প্রচ্ছিবি । তারা সাহাবীদের নিকট থেকে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করে বিস্তৃত মুসলিম সমাজের দিক দিগন্তে এর প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছিলেন । তাবেয়ীগণের মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন-
والسابقون الاولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعو هم باحسان رضي الله عنهم ورضوا عنه وأعد لهم جنات تجري من تحتها النهار خالدين فيها ابدا ذلك الفوز العظيم ( التوبه )
রাসূল ( সা ) থেকে বিভিন্ন হাদীস বর্ণিত হয়েছে , নিম্নে দু একটি উল্লেখ্য করা হল-
♦ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ( রা ) থেকে বর্ণিত , রাসূল ( সা ) বলেছেন-
خيرا الناس قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم
উম্মতের মধ্যে সর্বোওম হচ্ছে আমার যুগের লােকেরা । তারপর তার পরের যুগের লােকেরা ( তাবেয়ীগণ ) এবং তারপর তার পরের যুগের লােকেরা ( তাবে – তাবেয়ীনগণ )
♦ অন্য হাদিসে রাসূল ( সাঃ ) বলেছেন – অর্থাৎ তারা সৌভাগ্যবান , যারা আমাকে স্বচক্ষে দেখেছে এবং আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করেছে । আর তারাও সৌভাগ্যবান , যারা আমাকে দেখেছে এবং তাদেরকে দেখেছে ।

তাবেয়ীদের স্তরসমুহঃ

♦ তাবেয়ীদের তবকা বা স্তর নির্ণয়ে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে মতবিরােধ পরিলক্ষিত হয় । তাদের ও দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্থক্যই এ মতবিরােধের মূল কারণ ।ইমাম মুসলিম ( র ) ( মৃ . ২৬১ / ৮৭৫ ) তাবেয়ীদেও তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন ।

♦ ইবনে সাদ ( র ) মৃ . ২৩০ / ৮৪৫ ) তাবেয়ীদের চারটি স্তরে বিভক্ত করেছেন ।

♦ ইমাম আল – হাকিম ( র ) মৃ . ৪০৫ / ১০১৪ ) তাবেয়ীদের পনেরটি স্তরে বিভক্ত করেছেন । প্রথম স্তরের তাবেয়ীগণ হলেন তারা , যারা আশরায়ে মুবাশশারাহ ( দশজন সুসংবাদপ্রাপ্ত ) সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছেন । এরা হলেন-
★ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব ( র ) ( মৃ . ৯৪ / ৭১৩ )
★ কায়স ইবনে আবী হাযিম ( র ) , আবু উসমান আন – নাহদী ( র ) ।
★কায়স ইবনে উব্বাদ ( র ) ,
★ আবু সাসান হুদাইন ইবনে মুনযির ( র ) ,
★ আবু ওয়ইল শাকীক ইবন সালমা ( র )
★ আবু রাজা আল – উতরদী ( র ) প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য ।
দ্বিতীয় স্তরের তাবেয়ীগণের মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকজন হলেন :
★ আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ ( র ) ,
★ আল – কামাহ ইবনে কায়স ( র )
★ মাসরূক ইবনে আজদা ( র )
★ আবূ সালমা ইবনে ।
★ আবদির রহমান ( র )
★ খারিজা ইবনে যায়দ ( র ) প্রমুখ ।
তৃতীয় স্তরের তাবি ঈগণের মধ্যে হলেন-
★ আমির ইবন শারাহীল ( র )
★ আশ শাবী ( র )
★ উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদিল্লাহ ( র )
★ ইবন উতবাহ ( র ) শুরাইহ ইবনে হারিস ( র ) প্রমুখ এবং তাদের সমসাময়িকগণ।

এরপর ইমাম আল হাকিম ( র ) অন্য কোন স্তরের কথা উল্লেখ না করে বলেন , তাবেয়ীণের সর্বশেষ স্তরের মধ্যে | তারা পরিগণিত , যারা আনাস ইবনে মালিক ( রা ) ( মৃ . ৯৩ / ৭১২ ) এর সাথে সাক্ষাত লাভ করেছেন । এদের একটি বিরাট অংশ ছিলেন বসরার অধিবাসী । কেননা আনাস ( রা ) বসরা শহরেই বসবাস করতেন । এভাবে ঐসব লােক ও তাবেয়ীগণের সর্বশেষ স্তরের মধ্যে পরিগণিত হবেন , যারা কূফায় আবদুল্লাহ ইবন আবী আউফা ( রা ) ( মৃ . ৮৭ / ৭০৬ ) , মদীনায় সাইব ইবনে ইয়াযীদ ( রা ) মিসরে আবদুল্লহ ইবন হারিস ( রা ) ( মৃ . ৮৬ / ৭০৫ ) এবং সিরিয়ায় আবু উমামা | আল – বাহিলী ( রা ) প্রমুখের সাথে সাক্ষাত লাভ করেছেন । ইমাম আল হাকিম ( র ) তাঁর গ্রন্থে তাবেয়ীগেণের প্রথম তিনটি । স্তর এবং সর্বশেষ স্তরটি ছাড়া আর কোন স্তরের কথা উল্লেখ করেননি ।
উল্লেখ্য যে , তাবেয়ীগণের মধ্যে কিছু লােক এমন ও ছিলেন , যারা জাহিলিয়াতের যুগ ও পেয়েছেন আবার ইসলামের যুগও পেয়েছেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেছেন , কিন্তু নবী করীম ( সা ) এর সাথে সাক্ষাত লাভের সৌভাগ্য । কার । হাদীস বিজ্ঞানীগণের পরিভাষায় এদেরকে মুখাদরামীন বলা হয় । এদের মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকজন হলেন –
★ আব রাজা আল – উতরদী ( র )
★ আবূ ওয়াল আল – আসাদী ( র )
★ সুওয়াইদ ইবন গাফালা ( র ) ।

সর্বোত্তম তাবেয়ীঃ

♦ তাৰিঙ্গগণের মতে সর্বোওম তাবিঙ্গ হলেন
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব ( র ) (জন্ম ১৫হি . / ৬৩৪) (মৃ ৯৪ হি . / ৭১৩)
♦ ইমাম আহমদ বলেন , মদীনাবাসীদের মতে সর্বোওম তাবেয়ী হলেন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব ( র )( জন্ম – ১৫ | হি . / ৬৩৪)( মৃ , ৯৪ হি . / ৭১৩)
♦ কুফাবাসীদের মতে সর্বোওম তাবেয়ী হলেন ওয়াইস আল – কারনী ( র ) জন্ম – ৩৭ হি . / ৬৫৭ ।
♦ বসরাবাসীদের মতে সর্বেওম তাবেয়ী হলেন হাসান আল – বসরী ( র ) মৃ . ১১০ হি . / ৭২৯ ।
♦ সর্বোত্তম মহিলা তাবেয়ী ও আবু বকর ইবনে আবী দাউদ ( র ) বলেন , সর্বোওম মহিলা তাবেয়ী হলেন হাফসা বিনত সীরীন ( র ) ও আম্মারা বিনত আবদি ও রহমান ( র ) আর এদের পরেই উন্মুদ দারদা ( র ) এর স্থান।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে , ইসলামী জ্ঞান – বিজ্ঞান সাহাবীগণের নিকট থেকে গ্রহণ এবং পরবর্তীতে তা অনাগত মুসলিম উম্মাহর নিকট পৌছাবার মাধ্যমে ছিলেন তাবেয়ীগণ । তাঁরা ছিলেন আল্লাহর রাসূল ( সা ) এবং তাঁর সাহাবীদের যথার্থ অনুসারী । তাই সাহাবীদের পরেই মুসলিম উম্মার কাছে তারা মর্যাদাবান।

হাদীস সংকলন ও সংরক্ষণে তাবেয়ীদের অবদানঃ

হিজরী দ্বিতীয় শতকের প্রথম হতে তৃতীয় শতকের প্রথম শেষ পর্যন্ত । এ যুগ তাবেঈ ও তাবে তাবেঈদের যুগ । সাহাবী এবং প্রবীন তাবেঈগণ অধিকাংশই এ যুগে জীবিত ছিলেন না । এক বিশাল সাম্রাজ্য জুড়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল । হাদীস বর্ণনার ধারাও তখন ব্যাপক ও বিস্তৃতি লাভ করেছিল ।

হাদীসের শিক্ষায় তাবেঈ ও তাবি তাবেঈদের ভূমিকাঃ

সাহাবীদের অনসত পথে ধরে ও তাদের উৎসাহ উদ্দীপনার পর্যায়ক্রমে তাবেঈ এবং তাবি তাবেঈগণ হাদীস শিক্ষা করণে আগপৎ অবদান রাখতেন । তারা রাসুলের এক একটা হাদীস শিক্ষার জন্য তালের হাদীসের কেন্দ্র মক্কা , মদীনা , বসরা , কফা , শাম , মিশর প্রভৃতি দেশে সফর করেন । সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব বলেন : “ আমি মাত্র একটি হাদীস জানার উদ্দেশ্য একাধিক্রমে কয়েকদিন ও কয়েকরাত সফর করতাম ” । কফা নগরে অবস্থানরত বিশিষ্ট তাবেঈ শাবী একবার রসলান ও অধীনস্তদের হাদীস শিক্ষাদানকালে এক দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করতঃ বলেন , এ হাদীসটি ভালভাবে গ্রহণ কর , এর বিনিময়ে তােমাদের কিছুই দিতে হলাে না । অর্থাৎ কোন কষ্ট স্বীকার করতে হলাে না । যদিও এমন এক সময় ছিল যখন এক এক ব্যক্তিকে এর চেয়ে অল্প কথার জন্যও মদীনা পর্যন্ত সফর করতে হতাে ” ।
♦ তবেঈ আবুল আলীয়া বলেন-
“ আমরা ( বসরা থেকে ) মদীনায় অবস্থিত সাহাবীদের বর্ণিত হাদীস লােক মারফত শুনতে পেতাম । কিন্তু মদীনা গিয়ে না শুনা পর্যন্ত আমরা কিছুতেই সান্তনা পেতাম না ” । । |
তাবি – তাবেঈদের সময়ে এ অভিযান পূর্বাপেক্ষাও ব্যাপকতর রূপ লাভ করে । তাবেঈদের পর তাবেঈরই যােগ্য উত্তরসূরী আবি ; তাবেঈদের জামাআত হাদীস প্রচার ও সংরক্ষণের এ মহান ব্রত পূর্ণ মাত্রায় নিজেদের স্কন্দে গ্রহণ । করেন । তারাও পূর্ববর্তীদের ন্যায় হাদীস শিক্ষাকল্পে অনেক কষ্ট ও ত্যাগ – তিতীক্ষা স্বীকার করেন ।

তাবেঈ ও তাবি – তাবেঈদের হাদীস হিফজকরণঃ

সাহাবায়ে কেরামের ন্যায় তাবেঈ ও তাবি – তাবেঈগণও হাদীস মুখস্ত করণের ব্যাপারে পূর্ণ উদ্যম , উৎসাহ , অপরিসীম আগ্রহ এবং নিষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন । তারা মুখস্ত করণের উপর অধিক গুরুত্ব দিতেন । তাদের স্মৃতিশক্তিও ছিল অত্যন্ত প্রখর ও নির্ভরযােগ্য ।

♦ ইমাম শাবী ( রঃ ) বলেনঃ
আমি কখনও সাদা কাগজে কালির দাগ দেইনি , যা একবার শুনি তাই আমার হিফজ হয়ে যায় । আমি কোন দিন কাউকে কোন হাদীস পূণঃ বলতে অনুরােধ করিনি ।
তাবেঈ ও তাবি – তাবেঈদের মধ্য থেকে অনেকেই এরূপ প্রখর স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ছিলেন এবং তারা এ মেধাকে হাদীস সংরক্ষণ , মুখস্তকরণ ও এর ক্রমবিকাশে কাজে লাগিয়েছিলেন । তাঁদের অনেকেই লক্ষ লক্ষ হাদীস মুখস্ত করেছিলেন । উল্লেখযােগ্য কয়েকজন হাফিযে হাদীসের নাম নিম্নে প্রদত্ত হলাে-
★ আমর ইবনে দীনার
★ ইবন শিহাব যুহরী ।
★ মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক
★ যুর ’ আ ইবন ইয়াহইয়া বাসরী প্রমুখ ।

তাবীঈদের পরিচয়

তাবেঈ ও তাবে – তাবেঈদের হাদীস লিখনঃ

সাহাবীদের ন্যায় তাবেঈ এবং তাবে – তাবেঈগণ হাদীস মুখস্তকরণের সাথে সাথে হাদীস লিপিবদ্ধ করণের তা সবিশেষ মনােযােগী হন । এ দ্বিতীয় যুগে এসে বিভিন্ন কারণ ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকারী উদ্যোগে ব্যাপক আকন্দ হাদীছের লেখন কার্য শুরু হয় । ইসলাম বিভিন্ন দেশে বিস্তৃতির ফলে অনারবদের পক্ষে হাদীস সংরক্ষণের জন্য শুধু শক্তির উপর নির্ভর করা সম্ভবপর ছিল না । উপরন্তু হিজরী প্রথম শতকের মধ্যভাগ হতে ইসলামী উম্মাহর মাঝে যারেজ । ও শিয়া সমপ্রদায়সহ অনেক নতুন নতুন বাতিল ফিরকার উদ্ভব হতে শুরু করে । তঙ্কালীন সময়ে সাম গ্রন্থাকারে সংকলিত না থাকার কারণে তাঁরা এ সুযােগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মতামতকে হাদীসের আলােকে প্রমাণসিদ্ধ করার জন্য জাল হাদীস তৈরী করে তা রাসুলের হাদীস বলে প্রচারণা চালাতে থাকে । এভাবে তারা ইমথ্যা । | হাদীস সমাজে প্রচলন করতে সমর্থ হয় । শিয়াদের সর্ব প্রথম হাদীস জালকারী মুখতার ইবনে আবু উবায়দ কুফায় আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইয়ের ( রাঃ ) এর সাথে সাক্ষাতকালে জনৈক মুহাদ্দিছকে বলেছিলেন ঃ আমার জন্য রাসুল ( সাঃ ) এর । নামে এমন কিছু হাদীস রচনা করে দাও , থেকে প্রমাণিত হবে যে , আমি তার পরেই খলিফা হবে ।

তাবীঈদের পরিচয়

★ এ সকল কার্যক্রম দেখে তখন আশংকা হচ্ছিল যে , সত্য হাদীস গুলােও মিথ্যার সয়লাবে ভেসে যায় নি প্রয়ােজন দেখা দিল একটা গ্রহণযােগ্য নীতিমালার অধীনে অর্থাৎ সনদ সহকারে হাদীস সংকলন করার । এহেন পরিস্থিতি উমাইয়া খলীফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ( রাঃ ) হাদীসের বিরাট বিক্ষিপ্ত সম্পদ অনতিবিলম্বে সংগ্রহ , সংকলণ ও তা । সুবিন্যস্ত করণের তীব্র প্রয়ােজনীয়তা অনুভব করে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন । ইসলামী । সম্রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে হাদীস লেখার জন্য সরকারী লিখিত ফরমান পাঠান । তিনি বলেনঃ “ রাসুল ( সাঃ ) এর হাদীসের প্রতি দৃষ্টি দাও এবং তা সংগ্রহ ও সংকলনে ব্রতী হও ” ।

★ মদীনার শাসনকর্তা ও বিচারপতি আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবন হাযমকেও এ মর্মে লিখে পাঠান যে রাসুলের হাদীছ তাঁর সুন্নাত কিংবা উমরের বাণী বা অনুরূপ যা কিছু পাওয়া যায় তার প্রতি দৃষ্টি দাও এবং আমার জন্য লিখে লও । কেননা আমি ইলমে হাদীসের ধারকদের অন্তর্ধান এবং হাদীস সম্পদের বিলুপ্তির আশংকা বােধ করছি ।

★ উমর ইবন আব্দুল আজিজ ( রাঃ ) ইমাম যুহরীকেও বিশেষভাবে হাদীস সংকলনের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন । এ সম্পর্কে ইমাম যুহরী ( রঃ ) নিজেই বলেন , খলীফার আদেশ পেয়ে আমরা হাদীসের বিরাট বিরাট গ্রন্থ লিখে তাঁর নিকট পাঠিয়ে দিলাম । তিনি রাজ্যের প্রতিটি প্রদেশে এক এক খানি গ্রন্থ পাঠিয়ে দেন । খলীফা উমর ইবনে আব্দুল আজীজ হাদীস সংগ্রহ কার্যে আলিমদেরকে উৎসাহ অনুপ্রেরণা দানের উদ্দেশ্য মাথা পিছু এক শ ‘ দীনার হারে মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করেন । ফলে হাদীস সংগ্রহে তাদের মাঝে ব্যাপক উদ্যম সৃষ্টি হয় । ইমাম মালিক ( রঃ ) বলেন ঃ সর্ব প্রথম যিনি হাদীস সংকলন করেন তিনি হলেন ইবনে শিহাব যুহরী ( রঃ ) ইবনে হাজার আসকালানী বলেন ঃ সর্ব প্রথম হাদীস সংগ্রহ । এবং সংকলনের কাজ করেন রুবাঈ ইবন সুবাই ও সাদ ইবনে আবু যারুবা এবং আরাে অনেকেই । তারা হাদীসের প্রত্যেকটি অধ্যায়কে স্বতন্ত্রভাবে গ্রন্থাবদ্ধ করেন ।

★ ইমাম মাকহুল গ্রন্থ প্রণয়নের কাজ ব্যাপক ভাবে শুরু হওয়ার পূর্বেই কিতাবুস সুনান নামে হাদীসের একখানি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন । আবার সূয়তী বলেন ঃ ইমাম শাবী একই বিষয় সম্পর্কিত হাদীস সমূহ একত্রে সংকলন করার কাজ করেন সর্ব প্রথম । এছাড়াও বিভিন্ন রাষ্ট্রে তক্কালে যারা হাদীস সংকলন ও গ্রন্থ প্রণয়নে যুগপদ অবদান রেখে ছিলেন । তাদের মাঝে উল্লেখযােগ্য হলেন-
★ মক্কায় ইবনে জুরায়েজ
★ মদীনায় ইবনে ইসহাক ও ইমাম মালেক

★ বাসরায় হাম্মাদ ইবন সালমা
★ কূফায় সুফিয়ান আস – সাওরী
★ মিসরে আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাব প্রমূখ।

সমাপনীঃ

তাবেয়ী হচ্ছেন – যারা নবুয়তি যুগের পরে এসেছেন । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেননি । কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গ পেয়েছেন । তাবেয়ী হচ্ছেন – যিনি সাহাবীর সাক্ষাত পেয়েছেন । তাবেয়ীগণের উদাহরণ হচ্ছে সাঈদ ইবনে আল – মুসায়্যিব , উরওয়া ইবনে যুবাইর , হাসান বসরী , মুজাহিদ ইবনে জাবর , সাঈদ ইবনে যুবায়ের , ইবনে । আব্বাসের ক্রীতদাস ইকরিমা , ইবনে উমরের ক্রীতদাস নাফে ।

তাবীঈদের পরিচয়

তাবীঈদের পরিচয়

তাবীঈদের পরিচয়

তাবীঈদের পরিচয়

তাবীঈদের পরিচয়