সাম্প্রতিক মুসলিম বিশ্বের পরিচয় ।দেশসমূহ ,নাগরিক সংখ্যা,অর্থনৈতিক অবস্থা ও অন্যান্য তথ্য সংক্ষেপে বর্ণিত

muslim world

এই প্রশ্নে যা যা থাকছে

উপস্থাপনা :

মুসলিম বিশ্বের পরিচয় . নবী করীম ( স ) – এর নবুয়তপ্রাপ্তির প থেকেই মিশনারি ধর্মব্যবস্থা । হিসেবে ইসলামের অব্যাহত বিকাশ ও বিস্ততি বিশ্বের ইতিহাসের একটি বিস্ময়কর ঘটনা । পরিপূর্ণ জীবনাদর্শ ইসলাম ছােট্ট নগরী মক্কায় আবির্ভাবের পর এর অনুসারীদের ক্রমাগত সংখ্যা সমগ্র বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে । খােলাফায়ে রাশেদা , অতঃপর উমাইয়ী ও আব্বাসীয় শাসনামলে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে । মুসলিম । শাসনাধীনে আসে বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র । এরপর উপনিবেশবাদের আবির্ভাব ঘটে । উপনিবেশবাদীরা অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে । এক পর্যায়ে শুরু হয় স্বাধীনতা সংগ্রাম । আস্তে আস্তে সাম্রাজ্যবাদীরা মুসলিম বিশ্ব থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় । আবির্ভাব ঘটে বহু মুসলিম জাতি রাষ্ট্রের । বিশ্বব্যাপী আজ মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় ১৭৫ কোটি । সমগ্র পৃথিবীতে তারা দ্বিতীয় বৃহত্তর ধর্মীয় জাতি হিসেবে পরিচিত ।

সাম্প্রতিক মুসলিম বিশ্ব :

বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রসমূহ মুসলিম বিশ্ব হিসেবে খ্যাত । সারাবিশ্বের ৩১০টি জাতিগােষ্ঠী বা ভাষাভিত্তিক নৃগােষ্ঠী ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে অর্ধশতাধিক রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে । চীন এবং ভারতেও প্রচুর মুসলমান রয়েছে । এসবই মিলে সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম বিশ্বের ব্যাপ্তি ।

বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনগােষ্ঠী :

সারাবিশ্বের অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন জনগােষ্ঠী ইসলাম গ্রহণ । করে বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রসারে অবদান রেখেছে । বর্তমান পৃথিবীর প্রায় ৭১৭ কোটি জনসংখ্যার দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি মুসলিম । ব্রিটানিকা ইয়ারবুক – এর ২০০৪ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সংখ্যা ছিল নিম্নরূপ |

ganeralo


মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

তুর্কিদের শাসনাধীনে ফিলিস্তিন :

ফিলিস্তিন ১৩৮২ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সেলজুক , তুর্কি ও মিসরের মামলুকদের অধীনে ছিল । মামলুক সুলতান কানজুল ঘুরীর নিকট হতে ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম সেলিম ( ১৫১২ – ১৫২৪ ) ফিলিস্তিন অধিকারে এনে রাজত্ব করেন । ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ফিলিস্তিনে তুর্কিদের শােষণ প্রতিষ্ঠিত থাকে । আর এ সময় ফিলিস্তিন ছিল ওসমানীয় সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশ ।

আরব জাতীয়তাবাদ

মুসলিম , খ্রিস্টান ও ইহুদিদের নিকট পবিত্র ভূমি প্যালেস্টাইন সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের সময়ে তুর্কিদের অধীনে আসে , কিন্তু এতে আরবগণ খুশি হয়নি । তাই তাদের মধ্যে জাতীয়তাবােধ বৃদ্ধি পায় । আর জাতীয়তাবােধ বৃদ্ধির সাথে সাথে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয় । ফলে তারা শরীফ হােসাইনের নেতৃত্বে আরব , সিরিয়া , প্যালেস্টাইন ও ইরাক নিয়ে একটি আরব সাম্রাজ্য গঠন করতে সচেষ্ট হন ।

জিওনিস্ট আন্দোলন :

আরব জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথে সাথে প্যালেস্টাইনে আরেকটি আন্দোলন শুরু হয় । ইহুদিদের পরিচালিত এ আন্দোলন “ জিওনিস্ট আন্দোলন ” নামে পরিচিত । প্রকৃতপক্ষে সমগ্র বিশ্বে ইহুদিদের জন্য কোনাে নির্দিষ্ট ভূমি ছিল না । তাই তারা মনে করত , তাদের জাতীয় জীবন প্যালেস্টাইনের সঙ্গে ওতপ্রােতভাবে জড়িত এবং তাদের বিশ্বাস ছিল , প্যালেস্টাইনে পৃথক ইহুদি রাষ্ট্র সৃষ্টি করে তাদের সমস্যা সমাধান করা যায় । তাই জিওনিস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে তারা প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে ।

বিশ্ব ইহুদি সম্মেলন :

১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ইহুদিবাদের জন্মদাতা বলে খ্যাত ড . থিউজের হারজেল ইহুদিবাদকে রাজনৈতিক রূপ দেন এবং ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন , যা ইহুদিদের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে থাকে । একই বছর তার নেতৃত্বে সুইজারল্যান্ডের বাসলে শহরে ইহুদিরা প্রথম কংগ্রেসে মিলিত হয়ে ইহুদি জনগণের জন্য প্যালেস্টাইনে আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ব ইহুদি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয় ।

ব্রিটিশ মহারানির উপনিবেশ :

১৯১৮ – ৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ফিলিস্তিন কার্যত ব্রিটিশ মহারানির উপনিবেশ হিসেবেই শাসিত হয় । ফলে বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ফিলিস্তিনের ভাগ্য নিয়ন্তা হয়ে বসে ।

ধড়যন্ত্রের শিকার :

ব্রিটিশদের উপনিবেশকালে সকল প্রকার আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও লীগ অব নেশনসের বিধিবিধান লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের সকল প্রকার প্রতিনিধিত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার পদদলিত করে সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র

ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতি স্থাপনে ব্রিটেনের উৎসাহ :

ব্রিটিশরা শুরু থেকেই ফিলিস্তিনে ইহুদিদের বসতি স্থাপন ও ইহুদি কার্যক্রম পরিচালনায় উৎসাহ যােগায় । অতঃপর ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে ফিলিস্তিনে নিযুক্ত ব্রিটিশ কনসাল গার্ড শ্যাকটবারী ও গাউলার সেখানে ইহুদিদেরকে স্থানান্তর করে ব্রিটিশ ছত্রছায়ায় ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা পাস করে । ইহুদি ধনকুবের স্যার মুসা মনেটকিওর এ পরিকল্পনা সমর্থন করে ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে জাফায় কমলালেবুর বাগান খরিদ করেন ।

বসবাসের অনুমতি লাভ

ইহুদি সম্প্রদায়ের অন্যতম শীর্ষ নেতা ড . থিউতে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করলেও তার গঠিত আন্তর্জাতিক ইভটি শক্তিশালী হতে থাকে । ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ইহুদি নেতা ও বিজ্ঞানী ড . ফিলিস্তিনে ইহুদিদের বসবাসের অনুমতি লাভের বিনিময়ে মিত্রশক্তির ক পাওনা ইহুদি ঋণের অঙ্ক কমিয়ে দিতে রাজি হন ।

ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জমি ক্রয়ের চেষ্টা :

তুরস্কে ওসমানীয় বংশের শে ) দ্বিতীয় আবদুল হামিদ যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত , তখন ইহুদিরা তার কাছ ফিলিস্তিনে জমি ক্রয় করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু তিনি ইহুদিদের কাছে সিকি পতি জমিও বিক্রি করতে রাজি হননি । অবশ্য তুর্কি শক্তির বিপর্যয় এবং সেখানে বি বেনিয়াদের আগমনের পর ইহুদিদের ভূমি ক্রয় শুরু হয় ।

ব্যালফোর ঘােষণা :

ব্রিটেনের বৈদেশিক সচিব লর্ড আর্থার ব্যালফোর ১৯১৭ খ্রিস্টাতে ২ নভেম্বর প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সমর্থনে বিটি পার্লামেন্ট কর্তৃক এক প্রস্তাব পাস করান । ব্যালফোরের প্রচেষ্টায় প্রস্তাবটি পাস হয় । বলে একে ঐতিহাসিক ব্যালফোর ঘােষণা বলা হয় । ব্যালফোর ঘােষণার সূত্র ধরে । ওয়াইজম্যানের নেতৃত্বে ইউরােপ ও অন্যান্য দেশ হতে ইহুদিদের প্যালেস্টাইনে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হতে থাকে । এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ঐতিহাসিক B . spular বলেন , ব্যালফোর ঘােষণা দ্বারা ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে বলে ইহুদি মহলে বিশ্বাসের ঝড় ওঠে ।

প্যালেস্টাইনে ম্যান্ডেটরি শাসন :

প্রথম মহাযুদ্ধের অবসানে মিত্রশক্তি আরব ও ইহুদি উভয়কেই প্যালেস্টাইন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় । কিন্তু ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্যারিস সম্মেলনে যখন প্যালেস্টাইন দেশটি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ম্যান্ডেট হিসেবে স্থাপন করে , তখন সংঘবদ্ধভাবে ইহুদিরা প্যালেস্টাইনে আসতে থাকে । এদিকে ব্রিটেন আরবদেরকে স্বাধীনতা দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা চাপা পড়ে যায় ।

প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের আগমন :

প্যারিস সম্মেলনে প্যালেস্টাইন ব্রিটিশ ‘ ম্যান্ডেট হিসেবে স্বীকৃত হওয়ায় ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং সেখানকার অন্যান্য অধিবাসীর ধর্মীয় , সামাজিক প্রভৃতি অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব ব্রিটিশ সরকারকে দিয়েছিল । ফলে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার প্যালেস্টাইনের শাসনভার গ্রহণের সাথে সাথে সেখানে বসবাস করার জন্য অসংখ্য ইহুদি দলে দলে আসতে শুরু করে ।

আরবদের স্বাধীনতা লাভের আশা :

ব্রিটিশ সরকার ও প্রেসিডেন্ট উইলসনের চৌদ্দ দফা শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত স্বায়ত্তশাসন অধিকারের নীতির ওপর নির্ভর করেই প্যালেস্টাইন আরবগণ স্বাধীনঅর আশা পােষণ করত । অবশ্য শরীফ হােসাইনের সাথে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে হাই কমিশনার মেকমােহন যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন তাতে প্যালেস্টাইনের কোনাে উল্লেখ ছিল না । তাই এ চুক্তি প্রদর্শন করে তারা প্যালেস্টাইনে আরবদের স্বাধীনতার প্রশ্ন উপেক্ষা করতে থাকে ।

আরব – ইহুদি সংঘর্ষ :

আরবদের প্রতিবাদ সত্তেও পথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল হতে ইহুদির প্যালেস্টাইনে অনুপ্রবেশ করে আরবদের থেকে ভূসম্পত্তি ক্রয় করে কলকারখানা ও বসতি স্থাপন করতে থাকে । ইহুদিদের ক্রয় করা জমি জাতীয় সম্পত্তি বলে ঘােষিত হয় এবং আবাসচ্যুত আরব কৃষকদের জমি ও কলকারখানায় নিয়ােগে ইহুদিরা অসম্মতি জ্ঞাপন করে । ফলে আরবরা নিজেদের দেশেই বিদেশিতে পরিণত হয় এবং উভয় জাতির মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে দাঙ্গার রূপ নেয় । ১৯২১ , ১৯২৯ ও ১৯৮ খ্রিস্টাব্দে মারাত্মক দাঙ্গা সংঘটিত হয় । ফলে প্যালেস্টাইন সমস্যা আরাে জটিল আকার ধারণ করে ।

কমিশন নিয়োগ :

ব্রিটিশ সরকার প্যালেস্টাইন সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কমিশন নিয়ােগ করে । এ কমিশন প্যালেস্টাইনকে ৩ ভাগে ভাগ করে । যথা – প্রথম অংশ ইহুদি এলাকা , দ্বিতীয় অংশ মুসলমানদের এলাকা এবং তৃতীয় অংশ অর্থাৎ জেরুজালেম ও ব্রিটিশ শাসিত পার্শবর্তী নিরপেক্ষ এলাকা । আরব ও ইহুলি উভয়ই এ বিভাগ প্রত্যাখ্যান করে । ফলে ইহুদিরা আমেরিকার সাহায্য কামনা করে ।

শেতপত্র

এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় ব্রিটেন আরব রাষ্ট্রগুলােকে খুশি রাখার জন্য তাদের পক্ষে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে । এতে ৫০ বছরে প্যালেস্টাইনে ইহুদি আগমন ৭৫ হাজার পর্যন্ত সীমিত করা হয় এবং একটি স্বাধীন দ্বিজাতিমূলক প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয় । অবশ্য উভয়েই এ শ্বেতপত্র প্রত্যাখ্যান করে ।

বিল্টমাের কর্মসূচি :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে প্যালেস্টাইন সমস্যা এক নতুন মােড় নেয় । ইহুদিরা ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্ক শহরের হােটেল বিল্টমােরে এক জরুরি সভায় মিলিত হয়ে তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘােষণা করে । বিল্টমাের কর্মসূচি নামে খ্যাত এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের শেতপত্র প্রত্যাখ্যান করে একটি স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা ।

লন্ডন সম্মেলন ও জাতিসংঘের রায় :

ব্রিটিশ সরকার উভয় সংকটে পড়ে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে আরব ও ইহুদি প্রতিনিধিদের এক সম্মেলন আহ্বান করে । ইতােমধ্যে ট্রম্যান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইহুদিদের সহানুভূতি লাভের আশায় তাদের একটি নিজস্ব আবাসস্থল সৃষ্টির দাবির প্রতি সমর্থন জানায় । এতে আরবগণ ক্রুদ্ধ হয়ে সম্মেলন ত্যাগ করে । ফলে ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে প্যালেস্টাইন সমস্যা সমাধানের ভার জাতিসংঘের ওপর ছেড়ে দেয় । জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর ৩৩১৩ ভােটে প্যালেস্টাইন বিভক্তিকরণ বিল পাস করে । কিন্তু আরব লীগ এ প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে ।

ইহুদিদের বর্বর কাণ্ড :

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ঘােষিত প্যালেস্টাইন বিভক্তিকরণ বিল প্রস্তাব গ্রহণের সাথে সাথেই নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয় । এ সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ইহুদিদের হাতে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র তুলে দেয় । ফলে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ । ইহুদি বর্বরতার শিকার দেশপ্রেমিক ফিলিস্তিনিরাও তখন অস্ত্রধারণ করতে বাধ্য হয় ।

ব্রিটিশ সৈন্য প্রত্যাহার :

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশন যখন ফিলিস্তিনে ব্রিটেনের ম্যান্ডেট শাসন জারি থাকবে কি থাকবে না এ নিয়ে আলােচনা করে , তখন ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৪ মে ব্রিটেন একতরফাভাবে ম্যান্ডেটরি শাসন এবং সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় ।

ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা :

পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক পূর্ব প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৪ মে তেলআবিবে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাঈল প্রতিষ্ঠার কথা সরকারিভাবে ঘােষণা করা হয় । ফলে ড , ওয়াইজম্যান প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং ডেভিড বেনগুরিয়ান প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করে ।

ইসরাঈল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি :

ইসরাঈল রাষ্ট্র ঘােষিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রম্যান নবরাষ্ট্র ইসরাঈলকে স্বীকৃতি প্রদান করেন । দ্বিতীয় বারে স্বীকৃতি প্রদান করে সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী সােভিয়েত ইউনিয়ন । পরের দিন ১৫ মে সম্মিলিত আরব বাহিনী ইসরাঈল আক্রমণ করে , কিন্তু আমেরিকার মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রের মুখে আরব বাহিনী পরাজয়বরণ করে । |

জাতিসংঘের সদস্যভুক্তিকরণ :

ব্রিটেন , আমেরিকা , ফ্রান্স , সােভিয়েত রাশিয়ার । সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র প্রধানদের মদদপুষ্টে গঠিত ইসরাঈল রাষ্ট্রটিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে

মুসলিম বিশ্বের পরিচয় মুসলিম বিশ্বের পরিচয় মুসলিম বিশ্বের পরিচয় মুসলিম বিশ্বের পরিচয় মুসলিম বিশ্বের পরিচয় মুসলিম বিশ্বের পরিচয় ganeralo ganeralo