মুয়াত্তা ইমাম মালেকগ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ কেনো এটি সেরা একটি কিতাব

         

মুয়াত্তা ইমাম মালিকঃ

আল্লাহর কিতাবের পরে শুদ্ধতম কিতাব ‘ মুয়াত্তা ইমাম মালিক ইমাম মালিক ( র হ. ) – এর সৃষ্টি এই ‘ মুয়াত্তা ‘ । ইসলামী কিতাবের জগতে কিতাবুল্লাহর পরে দ্বিতীয় মর্যাদাময় অবস্থান এই কিতাবের । প্রথম আল্লাহর বাণী সমষ্টি এবং তার পর রাসূল – এর বাণীসমূহ তাঁর একনিষ্ঠ অনুসারীগণের পবিত্র অন্তরে গাঁথা হয়েছিল এবং বিভিন্নভাবে আলাদা আলাদা ব্যক্তিত্বগণের স্মৃতিভিত্তিক বর্ণনা সংগৃহীত ছিল । জেনে নি মুয়াত্তা ইমাম মালেক গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ ।

নামকরণঃ

মুয়াত্তা শব্দটি তাওতীহ – এর কর্মপদ । যার মানে ‘ পদচারণা ‘ এবং কোনাে কিছুর ওপরে চলা । মুয়াত্তার আভিধানিক অর্থ পদচারণা করা হয়েছে অথবা ‘ চলা হয়েছে ‘ এমন । শাহ ওয়ালীউল্লহ দেহলভী ‘ মুসাউয়াতে লিখেছেন যে , পদচারণা হয়েছে বা চলা হয়েছে ‘ এর বাহ্যিক সরল অর্থ হলাে যার ওপরে আলেমগণ , ইমামগণ এবং সাহাবাগণ চলেছেন এবং যাকে তাদের সবার বিবেচনা দিতে দলিত – মথিত করেছেন । অর্থাৎ সবাই তাকে নিয়ে আলােচনা পর্যালােচনা করেছেন এবং শেষে একমত হয়েছেন ।

মুয়াত্তা গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

ইমাম মালেক ( র ) কর্তৃক সংকলিত মুয়াত্তা গ্রন্থটি হাদীসশাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত । সনদ , মতন ও অন্যান্য বিষয়ের বিশুদ্ধতার বিচারে কেউ কেউ একে সিহাহ সিত্তাহর ও ওপরে স্থান দিয়েছেন ।
শাহ আবদুল আযীয তিনি আরাে বলেন ,
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীস أن المو طا المصحيحين মুহাদ্দিসে দেহলভী ( র ) বলেছেন মুয়াত্তা অপেক্ষা দশ গুণ হলে ও ইমাম বুখারী ও মুসলিম ( র ) হাদীস বর্ণনায় ইমাম মালেকের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন ।

মুয়াত্তা গ্রন্থের ধারাঃ
মুয়াও গ্রন্থেও ধারা এভাবে সাজানাে হয়েছে যে , প্রথমে রাসুল ( সা ) এর হাদীস বা কথা । ও কাজের বিবরণ উল্লেখ্য করা হয়েছে । তারপর সাহাবায়ে কেরামের কথা বা আছার । অবশেষে তাবেয়ীদের কুরআন ও হাদীসভিওিক ফতােয়াসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে ।

মুয়াওার স্বাতন্ত্রঃ
অন্যান্য হাদীস গ্রন্থসমুহে হেজায , ইরাক , সিরিয়া ও মুসলিম জাহানের অন্যান্য স্থানের হাদীস বর্ণনাকারীদের বর্ণিত হাদীস সমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে । কিন্তু মুয়াত্তায়ে মালেক গ্রন্থে রয়েছে কেবল মাত্র মদীনায় অবস্থনকারী মুহাদ্দিসগণের বর্ণিত হাদীস ।

মুয়াত্তার নামকরণঃ
ইমাম মালেকের মুয়াত্তা প্রনয়নে তৎকালীন মুহাদ্দিসীনে কেরাম পরামর্শ ও সহযােগিতার হস্ত প্রসারিত করেছিলেন । ইমাম মালেক ( র ) বলেন , আমার এ কিতাব খানা আমি মদীনায় বসবাস কারী সত্তর জন ফিকহবিদের সম্মুখে পেশ করেছি । তারা প্রত্যেকেই আমাকে এ কাজে উপেদেশ দিয়েছেন । এ কারণে আমি এর নাম রেখেছি মুয়াত্তা ।

নির্ভুল গ্রন্থনায় ইমাম মালেকের ভূমিকাঃ
ইমাম মালেক ( র ) হাদীসের বিশুদ্ধতা ও নির্ভুল গ্রন্থনায় যে ভূমিকা পালন করেন , তা ছিল পরবর্তী হাদীস সংকলকদের জন্য মাইলফলক । ইমাম মালেক দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ হাদীসসমূহ কঠোর শর্তাধীনে সূক্ষাতিসুক্ষভাবে যাচাই বাছাই করার পর এ গ্রন্থ সংকলন করেন । তিনি এ গ্রন্থ সুসংবদ্ধভাবে সজ্জিতকরণ , নিভূল ও সুশৃঙ্খল করতে যত্নবান হয়ে ছিলেন ।

ওলামায়ে কেরামের দৃষ্টিতে মুয়াত্তাঃ
ফিকাহ ও হাদীসবিদগণ মুয়াত্তা গ্রন্থখানা ব্যপকভাবে মুল্যায়ন করেছিলেন । তাদের কেউ কেউ বলেন , আল্লাহর কিতাবের পর ইমাম মালেক কর্তৃক সংকলিত হাদীসের কিতাব অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধগ্রন্থ দুনিয়ার বুকে আর একখানিও নেই ।

ইমাম মালেক নিজে বলেন-
ما وضع على الارض بعد كتاب الله هو اقرب الى القران من كتاب مالك
ইমাম মালেক সম্বন্ধে ইমাম নাসায়ী ( র ) বলেন ,
আমার দৃষ্টিতে তাবেয়ীদের পরবর্তী যুগে ইমাম মালেক ( র ) অপেক্ষা বড় বিজ্ঞ ব্যক্তি আর কেউ নেই ।

উপসংহারঃ

ইমাম মালেক ( র ) ছিলেন সর্বপ্রথম সফল হাদীস সংকলক , যিনি বিশুদ্ধতার নিরিখে উত্তীর্ণ বিশাল সংখ্যক হাদীস সংকলন করেছিলেন । তার সংকলিত গ্রন্থ মুয়াত্তা বিশুদ্ধতম ছয়টি হাদীগ্রন্থ সিহাহ সিত্তাহর অন্তর্ভুক্ত না হলে এসবের সমমানের হাদীগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। তাই আমাদের মুয়াত্তা ইমাম মালেক গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ জানা প্রয়োজন।

গ্রন্থ সংকলন করে ইমাম আবু দাউদ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকট নিয়ে যান। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এটাকে খুবই পছন্দ করেন এবং একটি উত্তম হাদিসগ্রন্থ বলে প্রশংসা করেন। মূলত তৎকালীন মানুশষের নিকট এই কিতাব একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। গ্রন্থ সংকলন করে ইমাম আবু দাউদ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকট নিয়ে যান। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এটাকে খুবই পছন্দ করেন এবং একটি উত্তম হাদিসগ্রন্থ বলে প্রশংসা করেন। মূলত তৎকালীন মানুশষের নিকট এই কিতাব একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। গ্রন্থ সংকলন করে ইমাম আবু দাউদ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকট নিয়ে যান। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এটাকে খুবই পছন্দ করেন এবং একটি উত্তম হাদিসগ্রন্থ বলে প্রশংসা করেন। মূলত তৎকালীন মানুশষের নিকট এই কিতাব একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল।

You Might Also Like