ইমাম শাফেয়ী র এর জীবনী এবং ইলমে হাদিসে তাহার অবদান আলোচনা

         

ভূমিকাঃ

ইসলামী শরীয়তের বিধিবিধানসমূহ সন্নিবেশিত করে ইলমূল ফিকহ ও হাদীস শাস্ত্রে যারা স্মরণীয় হয়ে আছেন তাদের মধ্যে ইমাম শাফেয়ী রহ . অন্যতম । তার প্রখর স্মৃতিশক্তি , অপূর্ব মেধা , বিস্ময়কর প্রতিভা আর উদ্ভাবনী ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা সারাবিশ্বে আলােড়ন সৃষ্টি করেছিল । নিম্নে প্রশ্নালােকে বিস্তারিত আলােচনা করা হল ।

নাম ও পরিচিতিঃ

নাম – মুহাম্মদ ,
উপনাম – আবু আব্দুল্লা ,
উপাধি – নাসেরুল হাদীস ,
লকব-শাফী ,
পিতার নাম- ইদ্রিস ।
তাঁহার নবম পূর্বপুরুষ আবদু মান্নাফ রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) এর চতুর্থ পুরুষ ছিলেন ।
তাঁর মাতার নাম – উম্মুল হাসান বিনতে হামযা ।

জন্ম গ্রহণঃ

ইমাম শাফেয়ী ১৫০ হিজরী রজব মাসে অসকালান প্রদেশের গাযাহ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন ।

শৈশবকালঃ

জন্মের দু ‘ বছর পর তিনি পিতাকে হারান । মা দুধ খাওয়ানের দুটি বছর কাটিয়ে নিজ গােত্রের নিবাস ইয়েমেনে চলে আসেন । মামার মেহে – যত্নে পূর্ণ আট বছর এখানেই কাটান।

শিক্ষাজীবনঃ

তিনি সাত বছর বয়সে কোরআন হিফজ করেন এবং দশ বছর বয়সে মুয়াত্তা ইমাম মালিক মুখস্ত করেন । অতঃপর মক্কায় গিয়ে সেখানকা ফকীহ ও মুহাদ্দিস মুসলিম ইবনে খালেদ যানজী এর নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেন । পনের বছর বয়সে তাঁর উস্তাদ তাঁকে ফাতওয়া দানের অনুমতি দেন , কিন্তু তিনি উস্তাদের সার্টিফিকেট নিয়ে ইমাম মালেকের দরবারে হাযির হন । তিনি তাঁহাকে মুয়াত্তা শুনান এবং তাঁর নিকট ফিকহও শিখেন । এ ছাড়া তিনি আরও ৮১ জন মুহাদ্দিসের নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেন । এর পর ইরাক গিয়ে তিনি আবু হানিফা ( রঃ ) এর ছাত্র মুহাম্মদ ইবন হাসানের নিকট ফিকহ হানাফী শিক্ষা লাভ করেন । এভাবে ইমাম শাফেয়ী মুহাদ্দিসগণের নিকট থেকে ইমাম মালেক এবং ইমাম আবু হানিফা ( রঃ ) এর মাযহাব সমূহের নিয়ম কানুন আয়ত্ত করে ত্রিমুখী জ্ঞানের অধিকারী হয়ে মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং মক্কায় আগত মিশরী স্পেনীয় ও আফ্রিকান আলেমগণের সঙ্গেও ভাবের আদান প্রদান করে গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন ।

কর্মজীবনঃ

অধ্যাপনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয় । হারুনুর রশীদের খেলাফতকালে তিনি নজরান | প্রদেশের গর্ভনর নিযুক্ত হন । আলী ( রাঃ ) এর বংশের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযােগে ১৮৪ হিজরী তাঁকে গ্রেপ্তার । করা হয় । পরে মুক্তি পেয়ে স্বপদে বহাল হন , কিন্তু বেশীদিন চাকুরী করতে পারেননি ।

ফিকহী মাযহাব প্রবর্তনঃ

১৯০ হিজরীতে ইমাম শাফেয়ী ( রঃ ) পুনরায় ইরাক ফিরে যান । সেখানে তিনি হানাফী , মালেকী ও মুহাদ্দিসীনের মাযহাব মিলিয়ে মধ্যপন্থী এক ফিকহী মাযহাবের প্রবর্তন করেন এবং সেমতে কিতাব রচনা । করেন । এ মাযহাবকে ইমাম শাফেয়ী ’ র মাযহাবে কৃাদীম অর্থাৎ পূরাতন মাযহাব বলা হয় । অতঃপর তিনি মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন । ১৯৮ হিজরীতে তৃতীয় বারের মত ইরাক গমন করেন এবং সেখানে কয়েক মাস অবস্থানের পর । মিশর চলে যান । সেখানে যাওয়ার পর তাঁর ফিকহী চিন্তাধারা ও ইজতিহাদে কিছু পরিবর্তন আসল । তাই পূর্বের । মাযহাবের মাঝে কিছুটা পরিবর্তন করে নতুনভাবে ফিকহ রচনা করেন । ইহাকে ইমাম শাফেয়ী ’ র মাযহাবে জাদীদ বা । নতুন মাযহাব বলা হয় ।

তপস্যা ও ইবাদাতের প্রকৃতিঃ

তাঁর নিজের মুখের কথা , এই বিশ বছর বয়স পর্যন্ত আমি কখনাে সত্য বা মিথ্যা । কসম খাইনি । রাতের এক – তৃতীয়াংশ ইবাদাত – বন্দেগী এবং আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার মধ্যে কাটাতেন । এক । অংশ কোরআন , হাদীস , ফিকহ ইত্যাদির অধ্যয়নে কেটে যেতাে । কারাে বিরুদ্ধে কোন কুৎসা রটনা বা গাবত । হত্যাদি থেকে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ মক্ত । একান্ত অনগত ছাত্র আমদ বিন তাবাতাহ বলেন , ইমাম শাফেয়ার মতাে । পরহেজগার মুত্তাকী আমি আর দেখিনী ।
আল্লামা ইবন জাওযীর বক্তব্যঃ
আল্লামা ইবন জাওযীর ( রহ । ইমাম ইবন হামলের ছেলে আবদুল্লাহর বরাত দিয়ে এ । ঘটনাটি বর্ণনা করেন যে , আমি আমার বাবা ইমাম ইবন হামালের কাছে একদিন জিজ্ঞেস করলাম , না । ( রহ ) কি রকম মানুষ ছিলেন যার জন্য আপনি রােজ এইভাবে দো ‘ আ – খায়ের করেন ? তিনি বলে ” । বার জন্য সূর্য যে রকম এবং মানুষের জন্য তার শারীরিক সুস্থতা যে রকম । । হাম শাফেয়ীর তুলনা ঠিক এই রকম পৃথিবীর জন্যে সূৰ্য যে রকম।

মৃত্যুঃ

ইমাম শাফেয়ী রহ মিশরে সুদীর্ঘ কাল অবস্থান করে তাঁর মাযজাবে ব্যয় করেন । অবশেষে ২০৪ হিজরী ৫৪ বসর বয়সে মিশরেই মারা যান ।

ইমাম শাফেয়ী ( রহ ) – এর রচনাবলীঃ

ইমাম রবী বিন সুলাইমান বলেন , ইমাম শাফেয়ী ( রহ ) যে ভাষা এবং বাগ্মীতার সাথে বক্তৃতা করছেন এবং তার কথার । মধ্যে যেসব আরবী পরিভাষা ব্যবহার করতেন , তা বােঝার জন্যও যথেষ্ট জ্ঞানের প্রয়ােজন । আরবী ভাষায় পন্ডিত । বিশেষজ্ঞদেরও সে বক্তৃতা শুনে মাথা ঘুরে যেতাে । লেখা বা রচনার মধ্যেও যদি তিনি সেই পারিভাষিক অলঙ্কারপূর্ণ উচ্চাঙ্গের বাগ্মীতা প্রয়ােগ করতেন , তাহলে তা সাধারণ পাঠকদের পডে কিছু বােঝার উপায় থাকতাে না । কিন্তু তিনি তার রচনাবলীর মধ্যে এতাে সহজ – সরল এবং সুন্দর বর্ণনা রীতি ব্যবহার করেছেন যা সাহিত্য মানে অতি উন্নত অথচ সহজে বােধগম্য , প্রাণবন্ত । এটাও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের আর একটি বৈশিষ্ট্য । “ ইত্তেহাফুন নুবলা ” তে নবাব সিদ্দীক হাসান খান । কারীর ( রহ ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে , তাঁর রচনার সংখ্যা একশ তের ‘ তাওয়ালা আততাসীস ’ – এ । ইমাম বায়হাকী ও হাফেয বিন হাজার আসকালানী ( রহ ) বলেন , মিশরে চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বইগুলাে প্রকাশ পেয়েছিল ।

সুন্নাহ অনুসরণ ইমাম শাফেয়ী ( রহ ) এর অবস্থানঃ

সুন্নাহকে সচ্ছ ও নিষ্কলুষ রাখার নীতিমালা মুস্ততালাহুল হাদীস এর আবিস্কারক এবং অসূলুত তাফসীর ও উসূলুল ফিকহ এর রূপকার , ভাষাবীদ ইমাম শাফেয়ী ( রহ ) একই ভাবে অন্ধ অনুস্বরণের উপর নির্ভরশীল আদর্শ গড়ার লক্ষ্যে যে সব মূল্যবান উপদেশ প্রদান করেছেন নমুনা স্বরূপ নিম্নে কিছু প্রদত্ত হল ,
ইমাম শাফেয়ী ( রহ ) বলেন
صح الحديث فهو مذهبي
কোন বিষয়ে যখন সহীহ হাদীস পাওয়া যাবে জেনে 2 রেখ সেটাই ( সহীহ হাদীসই ) আমার মাযহাব বা মত ও পথ ।
ইমাম শাফেয়ী ( রহ . ) বলেন
اذا وجدتم في كتابي خلاف سنة رسول الله صلعم فقولوا بسنة رسول الله صلعم – ودعوا ما قلت وفي رواية فاتبعوها ولا تلتفتوا الى قول احد
যখন তােমরা আমার কোন কিতাবে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) এর সুন্নাহর বিপরীত কিছু পাবে তখন এবং রাসূলুল্লাহর ( সাঃ ) সুন্নাহ অনুযায়ী ফাতওয়া দাও । অন্য Lত বর্ণনায় রয়েছে : তােমরা রাসূলের ( সাঃ ) সুন্নাহ অনুসরণ কর , অন্য কারাে কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ কর না । |
ইমাম শাফেয়ী ( রহ . ) ইমাম আহমাদকে ( রহ . ) বলেন-
انتم اعلم بالحديث والرجال منى فاذا كان الحديث الصحيح فاعلموني به اي شي يكون كوفيا او بصريا او شاميا حتى اذهب اليه اذا كان صحيحا
আপনারা আমার চেয়ে হাদীস এবং সনদ সম্পর্কে বেশী অবগত রয়েছেন , অতএব কোন সহীহ হাদীসের সন্ধান পেলে আমাকে জানাবেন কুফী , বাসরী ও শামী যেই হােক না কেন সহীহ হাদীসের জন্য আমি তার কাছে যেতে প্রস্তুত ।
ইমাম শাফেয়ী ( রহ . ) বলেন-
كل مسالة صح فيها الخبر عن رسول الله صد عند اهل النقل بخلاف راجع عنها في حياتي و بعد موتي
আমার জীবদশায় অথবা মৃত্যুর পরে যে সমস্ত মাসআলায় আমার ফাতওয়ার বিপরীত মুহাদ্দিসগণের নিকট সহীহ হাদীস প্রমানিত হয়েছে ঐসব মাসআলায় আমার মত প্রত্যাহার করে ( হাদীস গ্রহণ করে ) নিলাম ।
ইমাম শাফেয়ী ( রহ . ) বলেন )
كل ما قلت فكان عن النبي صلعم خلاف قولي مما يصح فحديث النبي صلعم فلا لدوني
আমি যে সব ফাতওয়া দিয়েছি এর বিপরীত নাবী ( সাঃ ) হতে সহীহ হাদীস প্রমাণিত হলে নবী ( সাঃ ) এর হাদীসই গ্রহণযােগ্য ও প্রধান্য পাবে , অতএব আমার কোন অন্ধানুকরণ কর না।

ইলমে হাদীসে ইমাম শাফেয়ী এর অবদানঃ

ইমাম শাফেঈ ( রঃ ) ১৫০ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন । একই বছর ইমাম আবু হানিফা ( রঃ ) ইন্তেকাল করেন । তিনি প্রথম মক্কায় আহলে হাদীসের কতিপয় চিন্তাবিদের , যেমন মুসলিম ইবনে খালিদ আল যিনজি এবং মুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ নিকট ফিকাহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন । এরপর তিনি মদীনার ইমাম ও আহলে হাদীসের নেতা মালিক ইবনে আনাস ( রাঃ ) এর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁর সংগৃহীত হাদীস ও আইন বিষয়ক মতামতের উপর ভিত্তি করে রচিত গ্রন্থ মুয়াত্তা মুখস্থ করেন । বস্তুত ইমাম শাফেঈ ( রঃ ) নিজেকে সবসময় ইমাম মালিক ( রঃ ) এর কাছে ঋণী মনে করতেন । ইলমে হাদীসের উপর তাঁর রচিত মােসনাদে শাফেয়ী গ্রন্থটি বিশেষ উল্লেখযােগ্য ।

আর রিসালাহ গ্রন্থে ইমাম শাফেঈর অনুসত পদ্ধতিঃ

রাসূল ( সাঃ ) এর নবুয়ত লাভকালে মানবজাতির অবস্থা বর্ণনার মাধ্যমে ইমাম শাফেঈ ( রঃ ) তাঁর গ্রন্থের সূচনা করেন । তিনি মানবজাতিকে দুভাগে ভাগ করেনঃ আহলে কিতাবঃ কিতাবের অনুসারী বা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের অনুসারীগণ যারা তাদের কিতাবের পরিবর্তন করেছে এবং এগুলাের বিধান বিকৃত করেছে । তারা কুফরীতে লিপ্ত হয়ে । আল্লাহর নাযিলকৃত সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ ঘটিয়েছে । মুশৱিক ও কাফিরগণঃ যারা আল্লাহর পরিবর্তে মূর্তিপূজা । করত । অতঃপর ইমাম শাফেঈ ( রঃ ) বর্ণনা করেন যে , আল্লাহ তায়ালা সর্বশেষ রাসূল প্রেরণ করেন এবং তাঁর নিকট । কিতাব নাযিল করে মানবজাতিকে রক্ষা করেছেন , যাতে তারা এর সাহায্যে অবিশ্বাসের অন্ধত্ব থেকে আলাের পথ খুজে । পেতে পারে । কুরআনের যে সকল ঘােষণার আইনগত গুরুত্ব সম্বলিত ইঙ্গিত রয়েছে সেগুলাের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে । প্রকারভেদে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে । অনুরূপ পাঁচটি প্রকারভেদ নিম্নে উল্লেখ করা হলােঃ
★ যে সকল আয়াতদ্বারা আল্লাহ সুনির্দিষ্ট আইন ব্যবস্থার কথা প্রকাশ করেছেন , সেগুলাের শাব্দিক অর্থ ব্যতিরেকে । অন্য কোনরূপ ব্যাখ্যা গ্রহণযােগ্য নয় । এ প্রকারের আল বায়ানের ক্ষেত্রে কুরআনের নিজস্ব ব্যাখ্যা ছাড়া কোন ব্যাখ্যা গ্রহণযােগ্য নয় ।
★ কুরআনে উল্লেখিত যে সকল বিষয় বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যার সুযােগ রয়েছে এবং যেগুলাের প্রকৃত তাৎপর্য সম্পর্কে সুন্নাহর মাধ্যমে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ।
★ যে সকল বিষয় স্পষ্টভাবে ফরজ ঘােষণা করা হয়েছে এবং রাসূল ( সাঃ ) কিভাবে , কেন , কাদের উপর , কখন সে । সকল আইন প্রযােজ্য হবে অথবা হবে না তা ব্যাখ্যা করেছেন । যে বিষয় সম্পর্কে রাসূল ( সাঃ ) ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন কিন্তু সে ব্যাপারে কুরআনে কোন উল্লেখ নেই । আল্লাহ তায়ালা কুরআনে আদেশ দিয়েছেন যে , রাসূল ( সাঃ ) কে মান্য করতে হবে এবং তাঁর দেয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে । সুতরাং রাসূল ( সাঃ ) নিজ এখতিয়ারে যা বলেছেন তা আল্লাহর এখতিয়ারে বলা হয়েছে ।
★ যে সম্পর্কে আল্লাহ চান যে , তাঁর বান্দাহগণ ইজতিহাদের মাধ্যমে অনুসন্ধান করুক , একে বলা যায় কিয়াস । তাঁর মতে কিয়াস হচ্ছেঃ কুরআন ও সুন্নাহর বক্তব্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যুক্তি – প্রমাণের ভিত্তিতে কোন আইনগত সিদ্ধান্তে পৌছার পদ্ধতি ।
ইমাম শাফেঈ ( রঃ ) এ পাঁচ প্রকারের আল বায়ান সম্পর্কে পাঁচটি পৃথক অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং প্রতি প্রকারের উদাহরণ ও সাক্ষ্য প্রমাণ পেশ করেছেন । রিসালাহ গ্রন্থে সংযােজিত পরবর্তী অধ্যায়সমূহ নিম্নরূপঃ
★ কুরআনে নাযিলকৃত সাধারণ ঘােষণাসমূহকে সাধারণ ও ব্যাপকার্থে ( আম ) গ্রহণ করতে হবে । তবে এগুলাের । মধ্যে বিশেষ বিশেষ ( খাস ) বিষয়াদিও অন্তর্ভুক্ত আছে ।
★ কুরআনে বাহ্যিকভাবে যে সকল সাধারণ ঘােষণা রয়েছে তাতে সাধারণ ও বিশেষ বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত আছে ।
★ কুরআনের যে সকল ঘােষণা বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হয় এগুলাে দ্বারা বিশেষ ঘােষণা বুঝানাে হয়েছে ।
★ কুরআনে ঐ শ্রেণীর বর্ণনা যার তাৎপর্য কুরআনের আয়াতের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয় ।
★ কুরআনের ঐ শ্রেণীর বর্ণনা যেগুলােতে ব্যবহৃত শব্দ বাহ্যিক অর্থ অপেক্ষা গঢ়ার্থ বহন করে ।
★ কুরআনের সে অংশ যা ব্যাপকার্থে নাযিল হয়েছে কিন্তু সুন্নাহ দ্বারা সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে , এগুলাে | বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হবে।
এছাড়া নিম্নবর্ণিত অধ্যায়সমূহ উক্ত গছে সংযােজিত হয়েছেঃ
★ আল ইজমাঃ ইজমা এর সংজ্ঞা এবং আইনগত বৈধতা রয়েছে ।
★ আল কিয়াসঃ তাৎপর্য , প্রকৃতি , প্রয়ােজনীয়তা , বিভিন্ন প্রকারের কিয়াস এবং এর প্রয়ােগ উপযুক্ত ।
★ ইজতিহাদঃ ইজতিহাদ প্রথমত কুরআন এবং অতঃপর সুন্নাহর উপর প্রতিষ্ঠিত হবে ।
★ ইসতিহসান , আইনগত অগ্রাধিকারঃ ইমাম শাফেঈ ( রঃ ) এ ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন যে , কোন মুসলমানকে হাদীসের বিরােধিতা করার জন্য ইসতিহসান করার অনুমতি দেয়া যায় না । কিংবা ইসতিহসান এমন কোন আইনগত সিদ্ধান্ত প্রদানের অনুমতি দেয় না যা কুরআন , সুন্নাহ , ইজমা বা কিয়াস এর উপর প্রতিষ্ঠিত নয় ।

সমাপণীঃ

ইমাম শাফেঈ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে , সবচেয়ে বেশি মনােযােগ দিতে হবে আইন প্রণয়নের নীতিমালার সংগ্রহ , সেগুলাের প্রয়ােগের জন্য বুনিয়াদী নিয়ম নীতি সুসংবদ্ধকরণ ও উসূলে ফিকাহ এর বিকাশ ঘটানাের প্রতি , যাতে এগুলাের সাহায্যে যথার্থ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন ফিকাহ সম্পর্কিত প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় ।

You Might Also Like