ইমাম আযম আবূ হানীফা (রঃ) (হানাফি মাজহাবের ইমাম)এর জীবনী।

         

ভূমিকা(الافتتاح):

ইসলামী শরীয়তে যুগ যুগ ধরে যারা কুরআন ও সুন্নাত এর খেদমত করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ইমাম আযম আবু হানিফা (রহঃ)। চার মাযহাবের মধ্যে ইমাম আযম আবু হানিফা (রহঃ)এর মাযহাব তথা হানাফি মাজহাব শ্রেষ্ঠ । এজন্য তাকে ইমামে আযম বলা হয়।

নাম ও বংশ(اسمه و نسبه):

নামঃ নু’মান
পিতাঃ সাবিত
দাদাঃ যূতা
উপাধিঃ ইমাম আযম
পারিবারিক নামঃ আবু হানিফা

ইমাম আযম এর বংশ ধারাঃ

هو نعمان بن الثابت بن زوطابن ماه
নুমান ইবনে সাবিত ইবনে যূতা ইবনে মাহী রহ।

জন্ম(ولد):

অধিকাংশ আলেমদের মতে, ইমাম আযম আবু হানিফা (রহঃ) ৮০ হিজরী সনে কূফায় জন্ম গ্রহন করেন।

শিক্ষা জীবন(حياةالتعليم):

ইমাম আবূ হানিফা (র.) ছোট বেলা থেকে প্রখর মেধাবী এবং অসাধারন স্মৃতি শক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তাঁর শৈশব, কৈশর ও যৌবনকাল কূফা নগরীর জগদ্বিখ্যাত মুহাদ্দিস সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈগনের সহচার্যে অর্পন করে ছিলেন।
শৈশবকালেই তিনি কুরআন হিফয সমাপ্ত করেন এবং সাত জন কারীর অন্যতম কারী হযরত আসেম থেকে ইলমে কেরাতের সনদ লাভ করেন।
আবু হানিফা (রঃ) কূফা নগরীতে জন্ম গ্রহন করেন। যা ছিল বিশ্বের একক ইলমে হাদীসের চর্চার নগরী ।কেননা বিশিষ্ট্য সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) দীর্ঘ দশ বছর কূফায় অবস্থান করেন।
ইমাম আযম আবূ হানিফা (রঃ) এর ভাগ্যাকাশে ইমাম শা’বী (রঃ) এর মত মহান ব্যক্তি তিনি তার শিক্ষক হিসাবে পেয়েছিলেন।ইমাম শা’বীর ইন্তেকালের পর ইমাম আবু হানিফা ঐ সময়ের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকিহ্ হযরত হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান(রঃ) এর খেদমতে হাজির হন। ইমাম আবু হানিফা (রঃ) তাঁর উস্তাদের মৃত্যুকাল পর্যন্ত ১৮ বছর তাঁর সাহচর্যে ছিলেন।
ইমাম আবু হানিফা পরিণত বয়সে যে জ্ঞানভান্ডার আহরণ করতে সক্ষম হন সে সম্পর্কে নবী করিম (সঃ) এভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন,
لو كان العلم معلقا عند الثريا لتناوله رجال من ابناء فارس
অর্থাৎ সকল জ্ঞানভান্ডার যদি আকাশের সুরাইয়া তারকায় গিয়ে লুকিয়ে যায়।তার পরেও পারস্যের কতিপয় সন্তান তা আহরণে ব্রতী হবে।

ব্যবসায়ীক জীবন(الحياة التجارية):

মানুষ বেচেঁ থাকার জন্য কোনো না কোনো আর্থিক উপায় অবলম্বন গ্রহন করে থাকে।ইমাম আবূ হানিফা (রঃ)
এর ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ছিল না। ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) জ্ঞান আহরণে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও চাশত থেকে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত তিনি বাজারে বসতেন।তবে একথাটি অনস্বীকার্য যে, ব্যবসার ক্ষেত্রে তিনি এমন কতিপয় পার্টনার বা শরীক পেয়েছিলেন যারা তাঁকে ব্যবসার ন্যায্য পাওনা বা লাভ প্রদান করতেন। যে কারনে ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) অধিক সময় জ্ঞানার্জনের কাজে সময় ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি জীবনের শেষাবধি ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। কারণ তিনি জানতেন যে, মহান আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল ঘোষণা করেছেন। নবী-রাসূলগণ সকলেই ব্যবসায়ী ছিলেন। আর হালাল উপার্জন ঈমান আনয়নের পরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয বিষয়।
ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) এর ব্যবসায়ীক সততার একটি উদাহরণ,

একবার একজন মহিলা একটি রেশমী কাপড় বিক্রি করার জন্য ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) এর নিকট এলো। ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) মহিলাকে কাপড়ের মূল্য ঘোষণা করতে বললেন। আগত মহিলাটি তার কাপড়টির মূল্য ১শ দিরহাম বলল।ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) মহিলাকে বললেন, এ কাপড়েটির দাম বাজারে আরো বেশি আছে বিধায় তুমি এর সঠিক মূল্য বল, অন্যথায় তুমি ঠকবে। মহিলা একপর্যায়ে এ কাপড়টির মূল্য ঘোষণা করতে করতে চার’শ ‘ দিরহাম পর্যন্ত উঠল। ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) বললেন তুমি এমন একজনকে ডেকে নিয়ে আস, যে এর সঠিক মূল্য ঘোষণা করতে পারবে। মহিলা একজন লোককে ডেকে আনলে তিনি ন্যায্য দরদাম করে মহিলা থেকে সেই কাপড়টি পাঁচ’শ’ দিরহামে ক্রয় করে নিলেন।

আখলাক ও বুযুর্গী (الأخلاق والتقوا)

হযরত হাসান ইবনে ইসমাঈল ইবনে মুজালিদ তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা ইসমাঈল থেকে বর্ণনা করেন।হযরত ইসমাঈল বলেন, আমি আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের দরবারে বসা ছিলাম। এ সময় ইমাম আবূ ইউসুফ (রঃ) তাঁর দরবারে প্রবেশ করলেন। খলিফা তাঁকে ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) এর বুযুর্গী এবং আখলাক সম্পর্কে বলার জন্য অনুরোধ জানান। প্রত্যুত্তরে হযরত আবূ ইউসুফ (রঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ হারাম থেকে তিনি কঠিনভাবে নিজকে বাঁচিয়ে রাখতেন। তিনি বলতে গেলে অধিকাংশ সময়ে নীরব থাকতেন এবং ভাবুক মনের ছিলেন।তিনি মিষ্টভাষী ছিলেন বটে তবে অধিক কথা বলতে পছন্দ করতেন না। কারণ পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লাহ পাক বলেন,
مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
“বান্দা যে কোন কথা বলে, এজন্য সদা প্রস্তুত রয়েছে তার সামনে একজন অপেক্ষমান প্রহরী”(সূরা কাহাফ-১৮)
হযরত মক্কী ইবনে ইব্রাহীম (রঃ) বলেন,
جالست الكوفيين فما رأيت اورع من ابي حنيفة
অর্থাৎ আমি কূফাবাসীদের সাথে বহুবার উঠাবসা করেছি , কিন্তু আমি আবূ হানিফা (রঃ)-এর চেয়ে বড় বুযুর্গ আর কাউকে দেখিনি।
♦ হযরত হাসান ইবনে সালেহ (রঃ) বলেন, ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) কঠিন এবং শক্ত বুযুর্গ ছিলেন। তিনি হারামের প্রতি চরমভাবে ভীত ছিলেন। তিনি সন্দেহ বা হারামে পতিত হওয়ার ভয়ে অনেক হালালকে ছেড়ে দিয়েছেন। আমি আমার জীবদ্দশায় তাঁর মত নিজের জীবনের এবং ইলমের হিফাজতের জন্য এত কঠিন ও পবিত্র মানুষ আর কাউকে দেখিনি।তাঁর জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিটি মহূর্তে তিনি আখিরাতের জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

রাতে- দিনে ইবাদাত(العبادة في اليل والنهار):

♦ ইমাম যাহাবী (রঃ) বলেন, ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) সম্পর্কে একথাটি সকলের নিকট মশহুর যে, তিনি সারাটি বছর রাতভর জেগে জেগে ইবাদাত বন্দিগী করতেন। তিনি নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন। এ কারণেই তাঁকে “ওয়াতদ” খেতাবে ভূষিত করা হয়েছিল। তিনি ত্রিশ বছর এক রাক’আতে গোটা কুরআন পড়ে ফেলতেন। তাঁর ইবাদাত সম্পর্কে আল্লামা যাহাবী (রঃ) লিখেছেন,
أنه صلي صلاة الفجر بوضوء العشاء أربعين سنة

অর্থাৎ তিনি ইশার অযূ দ্বারা ৪০ বছর ফজরের নামাজ আদায় করেছেন।
ইমাম আবূ হানিফা(রঃ) এর সারা রাতের কান্না শুনে প্রতিবেশীগণ তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করতেন। বর্ণিত আছে, ইমাম আবূ হানিফা(রঃ) তাঁর বসতস্থলে সাত হাজার বার কুরআন খতম করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

সাহাবীদের সাক্ষাৎ লাভঃ

♦ ইমাম হাফিজ আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ওসমান আয-যাহাবী (রঃ) বলেছেন,
ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) বাল্য বয়সে রাসূল এর সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) কে দেখেছিলেন।
♦ আল্লামা বায়হাকী (রঃ) তাঁর “মাদখাল” কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, নবী করিম (সঃ) এর পরে আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) অনেক বছর বেঁচে ছিলেন। ইরাকসহ সারা পৃথিবী থেকে লোকজন নিজস্ব প্রয়োজনে তাঁর নিকট ছুটে আসত।অন্য বর্ণনায় এসেছে, ইমাৃ আবূ হানিফা (রঃ) স্বয়ং বলেছেন,
رأيته مراراوكان يخضب بالحمرة
“আমি তাঁকে (আনাস রাঃ-কে) অসংখ্যবার দেখেছি। তাঁর দাড়িতে লাল বর্ণের খেযাব লাগানো ছিল।
♦ বর্ণিত আছে যে, ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীস তিনটি হলোঃ
১) طلاب العلم فريضة علي كل مسلم (ইবনে মাজাহ )
২) الدال علي الخير كفاعله ( মুসনাদে বায্ যার )
৩) إن الله يحب إغاثة الهفان ( মুসনাদে বায্ যার )।

এ ছাড়াও তিনি আমর ইবনে হুরাইস (রাঃ) সহ ২০ জন সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং ৭জন মতান্তরে ৮ জন থেকে হাদীস বর্ণনা করেন।

ইমাম আযম আবূ হানিফা (রঃ) এর উস্তাদগণঃ

আবূ হাফস আল-কবীর এর মতে, ইমাম সাহেবে উস্তাযের সংখ্যা ছিল চার হাজার। ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ সালেহী শাফেঈ (রঃ) বলেন, ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) চার হাজার তাবেঈ শায়েখদের নিকটদের থেকে ইলমে হাদীস গ্রহণ করেছেন। তাঁর উস্তাযদের মধ্যে কয়েক জনের নাম উল্লেখ করা হলো।
★আমর ইবনে শুরাহী আল -কূফী আশ-শাবী (রঃ)
★হাম্মাদ ইবনে আবূ সুলাইমান (রঃ)
★আতা ইবনে আবী রাবাহ (রঃ)
★হযরত ইকরামাহ (রঃ)
★হযরত নাফে’ (রঃ)
★হযরত আমর ইবনে দিনার (রঃ)
★হযরত আবুয যুবায়ের (রঃ)
★হযরত আতিয়াহ আল-আউফী (রঃ)
★হযরত আদ্ঈ ইবনে সাবিত (রঃ)
★হযরত মানসূর (রঃ)
★হযরত আবূ জা’ফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন (রঃ)

ইমাম আযম আবূ হানিফা (রঃ) এর উল্লেখযোগ্য ছাত্রবৃন্দঃ

ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) থেকে বিশাল একটি দল ইলমে হাদীস ও ইলমে ফিকাহ এর তালিম গ্রহণ করেন, যাদের সংখ্যা গণনা করা মুশকিল। ইমাম বুখারীসহ সিহাহ সিত্তার হাদীসের ইমামগণ তাঁর নাতী ছাত্র হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। নিম্নে ইমাম সাহেবের কয়েক জন ছাত্রবৃন্দুর নাম উল্লখ করা হলোঃ

★ কাযী ইমাম আবূ ইউসুফ (রঃ)
★ ইমাম যুফর ইবনুল হুযাইল (রঃ)
★ ইমাম হাম্মাদ ইবনে আবূ হানিফা (রঃ)
★ মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ-শায়বানী (রঃ)
★ কাযী আসাদ ইবনে আমর (রঃ)
★ হাসান ইবনে জিয়াদ আল-লুলুঈ(রঃ)
★ নূহ ইবনে আবী মারইয়াম (রঃ)
★ সুফিয়ান আস-সাওরী (রঃ)
★মালেক ইবনে মেগওয়াল(রঃ)
★ ইউনুস ইবনে আবী ইসহাক (রঃ)
★ মুগীরা ইবনে মেকসাম (রঃ)

হাদীস শাস্রে ইমাম আযম আবূ হানিফা (রঃ) এর অবধানঃ

ইমাম আযম আবূ হানিফা (রঃ) এর হাদিস শাস্রে অবধান অতুলনীয়।ইমাম সাহেব নিজে হাদীস বর্ণনা করেন যা তাঁর নিজ বক্তব্য দ্বারা প্রমাণ মিলে । আব্বাসীয় দ্বিতীয় খলিফা আবূ জাফর আল-মানসূর ইমাম আযম আবূ হানিফা (রঃ) কে এই মর্মে জিজ্ঞাসা করেন যে, তিনি কাদের কাছ থেকে ইলমে হাদীস অর্জন করেছেন? তখন আবূ হানিফা (রঃ) বললেন, “আমি হযরত ওমর (রাঃ) এর শারগিদগণের মাধ্যমে ওমর (রাঃ) থেকে হাদিস শুনেছি এভাবে হযরত আলী(রাঃ) থেকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর জামানায় আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর সমকক্ষ আর কোন বড় আলেম ছিলেন না। এছাড়া সিহাহ সিত্তার ১২৫ জন বর্ণনা কারী শায়েখ ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) এর শায়েখ ছিলেন। এবং বুখারী শরীফের ২২টি সুলাসিয়াত এর ২১টি বর্ণনা কারী শায়েখ ইমাম সাহেবের ছাত্র। নিম্নে ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) এর বর্ণিত হাদীস গুলো যে সকল কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে সে সব কিতাবের নাম গুলো দেওয়া হলোঃ

সিহাহ গ্রন্থসমূহ,যেমনঃ

★ সহিহ ইবনে খুযাইমা।
★ সহিহ ইবনে হিব্বান।
★ আল-মসতাদরাক আলাস সহিহাইন।

সুনান গ্রন্থসমূহ, যেমনঃ

★ সুনানে তিরমিযী।
★ সুনানে নাসাঈ।
★ আস-সুনান লি ইবনে আবী কাসেম।
★ সুনানে দারু কুতনি।
★ সুনানে বায়হাকি।

মুসান্নাফাত ও আছার গ্রন্থসমূহ,যেমনঃ

★ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক।
★ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা।
★ শারহু মা’আনিল আছার।
★ মুশকিলুল আছার।

মাসানিদ গ্রন্থসমূহ,যেমনঃ

★ মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল।
★ মুসনাদে আবুল জা’দ।
★ আল-আহাদ ওয়াল মাসানিদ ইত্যাদি।

ইমাম আযম আবূ হানিফা (রঃ) এর ফিকাহ শাস্রে অবদানঃ

♦ ইমাম শাফেঈ (রঃ) এর উস্তাজ ইমাম ওয়াকি(রঃ) বলেন,
ما لقيت احدا افقه من ابي حنيفة ولا أحسن صلاة منه
“ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) এর চেয়ে বড় ফিকহের পন্ডিত আর কারো সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়নি এবং তারঁর তুলনায় এত সুন্দর নামাজ পড়তে আর কাউকে আমি পাইনি।
♦ ইমাম শাফেঈ (রঃ) বলেন,
من لم ينظر في كتب أبي حنيفة لم يتبحر في العلم ولا يتفقه ،وكان أبو حنيفة وقوله في الفقه مسلما له
“যে ব্যক্তি ইমাম আবূ হানিফা(রঃ) এর কিতাব সমূহ দেখে নাই সে জ্ঞানের সমুদ্রে প্রবেশ করে নাই এবং ইসলামী শরীয়তের ফিকহ শাস্রে লান্ডিত্য অর্জন করতে পারে নাই। অথচ ইলমে ফিকহে ইমাম আবূ হানিফা(রঃ) এবং তাঁর বাণী তার নিকট একেবারেই গ্রহনযোগ্য হবে।
ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) ৮৩ হাজার মাসয়ালা ইস্তিম্বাত করেন। নিম্নে ইমাম সাহেব থেকে বর্ণিত মাসয়ালা বিভিন্ন মণিষিদের যে সকল কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমনঃ
★ফিকহুল আকবার।
★জামেউস সগীর।
★জামেউল কবীর।
★জিয়াদাত।
★কিতাবুল হজ্জ।

★কুদূরী
★ছীয়ারে সগীর ও কবীর ইত্যাদি।

ইমাম আযম আবূ হানিফা (রঃ) এর ইন্তিকালঃ

সকলে এব্যাপারে একমত পোষণ করছেন যে, ইমাম আবূ হানিফা (রঃ) ১৫০ হিজরী সনে রজব, শাবান বা শাওয়াল মাসে ইন্তিকাল করেন। মৃত্যুর সময় তিনি তাঁর একমাত্র সন্তান হাম্মাদকে রেখে যান।অনেকে বলেন তাঁর হানাফী নামে একজন মেয়ে ছিল-তথ্যটি মিথ্যা

যে সকল কিতাব থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছেঃ-
*উকুদুয যামান।
*মানাকিবে আবী হানিফা।
*তারীখে বাগদাদ।
*আখবারু আবী হানিফা।
*তাবরানী।
*আল-খাইরাতুল হিসান।
*শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী।
*জামিউল উসূল ফি আহাদীসি রাসূল

*আল-মাদখাল।
*তাযীবুত তাহযীব।

You Might Also Like