নবিজী সাঃ এর স্ত্রী’গনকে বিয়ে করা যাবে না কেনাে? ডঃ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী হুজুর যে সুন্দর উত্তর দিলেন।

ডঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেবের প্রশ্ন ছিলাে ” নবিজী সাঃ এর স্ত্রী’গনকে বিয়ে করা যাবে না কেনাে? আব্বাসী সাহেব বললেন , আল্লাহ কোরআনে বলেছেন , নবীর স্ত্রী’গন তােমাদের মা । মা’কে বিবাহ করা হারাম । তখন জাফরুল্লাহ বললেন , এমনকি হতে পারে না , উনি চান নাই উনার স্ত্রী’গণকে কেউ বিয়ে করুক তাই সেইভাবে আল্লাহর নিকট থেকে আয়াত নাজিল করিয়েছেন ” ! এই প্রশ্নে দু’টি জিনিস ফুটে ওঠে । এক . জাফরুল্লাহ সাহেব সরাসরি বলার সাহস পাচ্ছেন না কিন্তু মনে করেন এসব আয়াত আল্লাহর নিকট থেকে আসে নাই , রাসুলুল্লাহ নিজের দরকার মতাে বানিয়েছেন ( নাউজুবিল্লাহ ) , দুই , অথবা উনি মনে করেন রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) উনার দরকার মতাে আয়াত আল্লাহর নিকট থেকে নিয়ে আসতে পারতেন ! এগুলাে চিন্তাভাবনা কিন্তু নাস্তিকতার পরিচয় । এই যায়গায় আব্বাসী সাহেব অসাধারণ উত্তর দিয়েছেন । প্রথমেই তিনি বলেন , আপনার সম্ভবত পুরাে কোরআনের উপর বিশ্বাস নেই । কিছু আয়াতে বিশ্বাস আছে কিছু আয়াতে নেই । আপনার তওবা পড়া উচিত এবং আমি আপনার হেদায়েত কামনা করছি । রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) যদি নিজের ইচ্ছামত আয়াত চেয়ে নিয়ে আসতেন তবে গােটা কোরআনে নিজের মায়ের কথা একবারও আনলেন না কেনাে ! নিজের প্রিয় মা’কে নিয়ে একটা আয়াত অন্তত আনতেন । কোন স্ত্রী’গনের নামে কোন আয়াত সুরা নেই । দুঃসময়ে পাশে থাকা প্রিয় স্ত্রী বিবি খাদিজাকে নিয়ে অন্তত একটা সুরা আনতেন । অন্যদিকে কোরআনে আছে অন্য নবীর মা মরিয়মের নামে সুরা । কেনাে ? কারন আল্লাহ যেভাবে চেয়েছেন উনার ইচ্ছামাফিক কোরআন নাজিল হয়েছে । ” এটা গেলাে আব্বাসী সাহেবের চমতকার যৌক্তিক উত্তর । এই বিষয়ে আমার নিজের কাছে একটা উদাহরণ আছে । ” আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মারা যাওয়ার পর তার পুত্র এসে কান্নাকাটি করে রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) কে অনুরােধ করলেন পিতার জানাজা পড়ানাের এবং গায়ের একটা জামা দিতে । সেটা দিয়ে দাফন করতে চাইলেন যদি আল্লাহ ক্ষমা করেন । রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের সাহাবী পুত্রের কথা অনুযায়ী গায়ের জামা দিয়ে দিলেন এবং জানাজা পড়াতে রাজি হলেন । হযরত ওমর ( রাঃ ) এসে বাঁধা দিলেন জানাজা না পড়াতে । আল্লাহর রাসুল ( সাঃ ) বললেন আমি ৭০ বার জানাজা পড়ালেও কাজ হবে না । ছেলেটা এতকরে বলছে আমি পড়াই ! আল্লাহ তাে আমাকে নিষেধ করেননি , বলেছে আপনি ৭০ বার পড়ান বা না পড়ান তাতে কোন লাভ হবে না ! পরবর্তীতে আল্লাহ কোরআন নাজিল করে বলে দিলেন ওদের জানাজাও আপনি পড়াবেন না । ” রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) নিজের ইচ্ছামত আয়াত আনলে উনার চাওয়ার বিপরীতে আয়াত নাজিল হতাে না । উনি জানাজা পড়ানােতে রাজি ছিলেন কিন্তু আল্লাহ নিষেধ করে দিলেন । মুল বিষয় হলাে , এসব জ্ঞানী লােকদের নিকট কোরআনের কোন জ্ঞান নেই । আর যে ব্যাক্তির কাছে কোরআনের জ্ঞান নেই তিনি পৃথিবীর সেরা মুখ । বলা যায় শিক্ষিত মুখ …

নবিজী সাঃ এর স্ত্রী’গনকে বিয়ে করা যাবে না কেনাে?

মুল লেখার লিংক

Advertisement

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *